নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পালাবদল হতেই ‘গোখরো কেউটে’রা পগারপার! অবৈধ নির্মাণ ভাঙলেও আর ছোবল দেওয়ার কেউ নেই। এবার অবৈধ নির্মাণের উপর বুলডোজার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, ৩০ জন অবৈধ নির্মাণকারীকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেগুলি ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি না ভাঙে পুরসভা বুলডোজার চালাবে। বর্ধমানে প্রায় ১৫০টি অবৈধ নির্মাণ রয়েছে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, পরেশবাবু চেয়ারম্যান থাকাকালীনও শহরজুড়ে বহু অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। পুকুর ভরাটও করা হয়েছে। তা নিয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। যদিও তৃণমূল জমানাতেই পরেশবাবু প্রকাশ্য একটি সভায় বলেছিলেন, ‘অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই গোখরো কেউটেরা ছোবল মারছে।’ ঘুরিয়ে দলেরই একাংশ দিকে তিনি আঙুল তুলেছিলেন। যদিও তৃণমূলের অনেকেই বলছেন, অবৈধ নির্মাণ হলে তার দায় চেয়ারম্যান কখনোই এড়িয়ে যেতে পারেন না। তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারতেন। তাঁর ওয়ার্ডেও কয়েকটি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, বহুতলগুলিতে অনেকেই জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিং করেছেন। কোনটা বৈধ নির্মাণ আর কোনটা অবৈধ নির্মাণ সেটা ক্রেতাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না। এখন সেই নির্মাণগুলি ভাঙা হলে তাঁরা যাবেন কোথায়? যাঁরা ইতিমধ্যে বুকিং করেছেন তাঁরাই বা টাকা ফেরত কীভাবে পাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আমরা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছি। গোড়াতেই পুরসভা সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আজ এই অবস্থা হত না। এর দায় পুরসভা কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, যারা পুকুর ভরাট বা অবৈধ নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহরের এক বাসিন্দা বলেন, অবৈধ নির্মাণের পিছনে যাদের মদত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এধরনের নির্মাণ হওয়ায় অনেক প্রভাবশালী লাভবান হয়েছে। শুধু প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। যারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করা দরকার। ছোটো গলির মধ্যেও বহুতল তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা হলে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের উদ্ধার করা দায় হয়ে উঠবে। এছাড়া কয়েক বছরে শহরে কয়েকটি পুকুর ভরাট করে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় রয়েছে। শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। কয়েকদিন আগে পুরসভার কর্মীরা কার্জন গেটের সামনে থাকা বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে দিয়েছেন। এবার তাঁরাই বুলডোজার নিয়ে ময়দানে নামবেন।
শহরের বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, প্রভাবশালীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কয়েকজন আধিকারিকও কাজ করেছেন। তাঁদের দাপটও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা দরকার।