নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের পর এবার কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়। ছাত্র সংসদের ঘরে এক ছাত্রনেতার গা মাসাজের ভিডিও এবার প্রকাশ্যে এল (যদিও বর্তমান ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। বিভিন্ন জায়গায় তা ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়েছে। ভিডিও দেখা গিয়েছে, যিনি মাসাজ করছেন, তিনি কলেজের কেউ নন। তাহলে কী করে একজন বহিরাগত কলেজের ইউনিয়ন রুমে ঢুকে মাসাজ করছেন? বুধবার এই কলেজেই একটি বিয়ের আসরের ছবি ভাইরাল হয়। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার গা-হাত-পা টেপানোর ভিডিও আরও একবার চর্চায় নিয়ে এল এই কলেজকে।
বিরোধীদের দাবি, এই ভিডিওতে ছাত্র সংসদের ঘরে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁরা এই কলেজের পড়ুয়া নন। তাহলে তাঁরা কীভাবে কলেজের ইউনিয়ন রুমের ভিতরে ঢুকলেন? তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিনই বহিরাগতরা কলেজে ঢুকে দাদাগিরি করত, আড্ডা মারত। ভিডিওতে যাঁকে মাসাজ করতে দেখা গিয়েছে, সেই দেবজ্যোতি পাল বলেন, ‘আমি এই কলেজের ছাত্র নই। বিকেলে কলেজের মাঠে অনেকেই খেলতে যায়। তাঁদের সঙ্গে আমিও যেতাম। একদিন বৃষ্টি হওয়ায় ইউনিয়ন রুমে ঢুকে পড়েছিলাম। সেই সময় এক বন্ধুর গায়ে ব্যথা করছিল। তাই মাসাজ করে দিয়েছি।’ তাঁর কথাতেই স্পষ্ট যে, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ ছিল। এই ভিডিও প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, এমন কোনও ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়াও এই রকম কোনও ছবি আমি দেখিনি। খোঁজ নিয়ে দেখব।
এদিকে, সোনারপুর মহাবিদ্যালয় নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। দলীয় নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইউনিয়ন রুমে গাঁজা, মদ ইত্যাদি খাওয়া হয়। ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করা হয়। এই সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতারাও স্টুডেন্টস ইউনিয়ন রুমে বসে আড্ডা মারেন। কেন বহিরাগতরা কলেজে ঢুকবে, প্রশ্ন করেন তিনি। সায়নের দাবি, স্থানীয় বিধায়ক তথা কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি লাভলি মৈত্র সব জেনেও নিশ্চুপ রয়েছেন। কোনও পদক্ষেপ করেননি। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, সিপিএম রাজনৈতিক হতাশা থেকে এমন কথা বলছে। তবে কোনও অনৈতিক কাজ সমর্থনযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখব।