Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার এন আর এসের টয়লেট, রহস্যমৃত্যু তরুণী নার্সের

আর জি করের পর এবার এন আর এস মেডিকেল কলেজ। ফের সরকারি হাসপাতালে অস্বাভাবিক মৃত্যু। এবং রহস্যমৃত্যু।

এবার এন আর এসের টয়লেট, রহস্যমৃত্যু তরুণী নার্সের
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি করের পর এবার এন আর এস মেডিকেল কলেজ। ফের সরকারি হাসপাতালে অস্বাভাবিক মৃত্যু। এবং রহস্যমৃত্যু। স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের টয়লেট থেকে বুধবার রাতে উদ্ধার হল নার্স রূপালি বর্মনের দেহ। শৌচালয়ের দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহের পাশেই পড়েছিল ইঞ্জেকশনের একটি সিরিঞ্জ ও রোগীদের অচেতন করার জন্য ব্যবহৃত ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল। কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। আর তাই, কী কারণে এই মৃত্যু, সে নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট থেকে ওষুধ ও সিরিঞ্জ নিয়ে একজন নার্স বেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন সেখানে ডিউটিতে থাকা অন্যদের তা নজরে এল না? এই প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সাতদিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট দেবে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বাসিন্দা রূপালিদেবী এন আর এসের গ্রেড-টু স্টাফ নার্স ছিলেন। মাত্র দশ মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। থাকতেন দমদমে। বৃহস্পতিবার তাঁর নাইট ডিউটি ছিল স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগে। রাত ৮টা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দেন। কয়েকজন রোগীকে পরিষেবাও দেন। রাত ৯টা ১০ মিনিটে রূপালিদেবী টয়লেটে যান। অন্য নার্সরা কাজে ব্যস্ত থাকায় কেউ খোঁজও করেননি। সোয়া ১০টা নাগাদ এক জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য তাঁর খোঁজ করেন। তখনই সকলের টনক নড়ে। বিভাগের নার্সরা খুঁজতে গিয়ে দেখেন টয়লেটের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি তাঁরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। থানার আউটপোস্টের অফিসাররা এসে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সকলের সামনে দরজা ভাঙেন। দেখা যায়, সেখানেই পড়ে আছেন রূপালিদেবী। পাশে রয়েছে সিরিঞ্জ, ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল ও মোবাইল। তাঁকে উদ্ধার করে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় স্বামী রাহুল দাসকে। রাতেই তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। নিরপেক্ষ জায়গায় ময়নাতদন্তে তাঁর অনুরোধকে মান্যতা দিয়ে মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় দেহ। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎকরা জানিয়েছেন, কনুইয়ের নীচে থাকা অস্থিসন্ধিতে ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন ওই নার্স। ওষুধের ওভারডোজে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতবাবু। তিনি বলেন, ‘যা যা পাওয়া গিয়েছে, তা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন মারা গেলেন, মারা যাওয়ার আগে কী ঘটেছিল সবকিছু পুলিশ তদন্ত করছে।’
তবে ওই নার্সের মৃত্যু নিয়ে রহস্য কাটছে না। রূপালিদেবীর মোবাইলের কল লিস্ট খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছিল, তাঁদের ডেকে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে। একইসঙ্গে বিভাগে কোনো সমস্যা ছিল কি না জানতে ওই বিভাগের সব নার্সের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নার্সেস ইউনিটির রাজ্য সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ