নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরবাসীর দিন তিনেকের শীতযাপন আপাতত অতীত! ফের বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। শুধু তাই নয়, দিন চার-পাঁচেক আগে যেভাবে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে এসেছিল, নভেম্বরে পারদ এতটা নামার সম্ভাবনা আর খুব একটা নেই বলেই জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। এমনটাই যে হতে চলেছে, রবি বা সোমবার সকালের পরিস্থিতি দেখে তা কিছুটা আন্দাজ করা গিয়েছে। গত কয়েকদিন সকালে যে শীতের আমেজ টের পাচ্ছিল শহরবাসী, রবিবার থেকে তা কার্যত উধাও। এরপর বেলা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে গরম। দু’-চার মিনিট হেঁটে গেলেই কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তবে সন্ধ্যা নামার পর কিছুটা ঠান্ডাও অনুভূত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এমনই থাকবে শহরের আবহাওয়া। এমনকি, শনি এবং রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। আগামী সপ্তাহে ফের পারদ-পতন হবে। তবে তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি বা তার নীচে চলে আসার আপাতত কোনও সম্ভাবনা দেখছে না হাওয়া অফিস।
গত ১২ নভেম্বর, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছিল ১৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরের দু’দিন তাপমাত্রা আরও কমে ১৭.১ ডিগ্রিতে চলে আসে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই শীতের আমেজ এসে পড়েছিল কলকাতায়। সকালে যাঁরা কাজে বেরচ্ছিলেন, তাঁদের গরম জামা বা সোয়েটার চাপাতে হচ্ছিল। রাতে বাড়ি ফেরার সময়ও দেখা যাচ্ছিল একই চিত্র। শনিবার থেকে তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে শুরু করে। শনিবার হয় ১৭.৬ ডিগ্রি, রবিবার ১৭.৭ ডিগ্রি। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও বেড়ে ১৮.৫ ডিগ্রি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা ভাব উধাও। ঝাড়পোঁছ করে তুলে দেওয়া ফ্যান আবার বার করতে বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ। অথচ সপ্তাহখানেক আগেই রাতে কাঁথা-কম্বলের তলায় ঢুকতে হয়েছিল শহরবাসীকে।
কাজের সূত্রে নিয়মিত কোলাঘাট থেকে ধর্মতলায় আসতে হয় কমল রক্ষিতকে। সোমবার দেখা গেল, বাস থেকে নেমেই খুলে ফেললেন হালকা জ্যাকেট। বললেন, ‘সকালে ততটা ঠান্ডা ছিল না। ভেবেছিলাম বাসে আসার সময় হাওয়ায় ঠান্ডা লাগতে পারে। কিন্তু পুরো রাস্তা ভালোই গরম লাগল। আর কলকাতায় নেমে বুঝলাম, গায়ে আর জ্যাকেট রাখা যাবে না।’ ব্যাগে ‘হুডি’ নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ঋত্বিক বসু। তাঁর কথায়, ‘সকালে তো বেশ গরম লাগছিল। রাতে ফেরার সময় যাতে ঠান্ডা না লাগে, তাই হালকা সোয়েটার নিয়েছি।’ আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে শীত-শীত ভাব আর পাওয়া যাবে না। পরের সপ্তাহে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু ১৭ ডিগ্রি বা তার নীচে নামার সম্ভাবনা কম। তাহলে কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি কবে টের পাবে শহরবাসী? সেই উত্তর পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে!