Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিহারের গ্যাংস্টার খুনের নেপথ্যে গোপালগঞ্জের কুখ্যাত অপরাধী রঞ্জন

দুর্গাপুজোর রাতে হাওড়ার সন্ধ্যাবাজারে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিল বিহারের গোপালগঞ্জের গ্যাংস্টার সুরেশ যাদব। ওই খুনের পিছনে সেখানকারই এক গ্যাংস্টারের নাম উঠে এসেছে।

বিহারের গ্যাংস্টার খুনের নেপথ্যে গোপালগঞ্জের কুখ্যাত অপরাধী রঞ্জন
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়  কলকাতা

Advertisement

দুর্গাপুজোর রাতে হাওড়ার সন্ধ্যাবাজারে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিল বিহারের গোপালগঞ্জের গ্যাংস্টার সুরেশ যাদব। ওই খুনের পিছনে সেখানকারই এক গ্যাংস্টারের নাম উঠে এসেছে। রঞ্জন যাদব নামে কুখ্যাত ওই অপরাধীর বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা ঝুলে রয়েছে বিহারে। ঘটনার দিন সে হাওড়ায় উপস্থিত ছিল। লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে সুরেশকে খুনের সুপারি নিয়েছিল সে। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে পেয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ। খুনের পর শার্প শ্যুটার রঞ্জন অ্যাপ ক্যাব ধরে কলকাতায় চলে যায় বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা।
সপ্তমীর রাতে হাওড়ার বনবিহারী বোস লেনে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় আর জে ডি কর্মী সুরেশ যাদবকে। বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা নাইন এম এম পিস্তল থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। কিন্তু কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং খুনের মোটিভ কী, সেটাই খুঁজছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের অফিসাররা। ওই এলাকার মোবাইলের টাওয়ার ডাম্প নেওয়া হয়। সেগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, হাওড়ার এক ব্যক্তির কাছে বিহারের একটি নম্বর থেকে ঘটনার আগের দিন ফোন এসেছে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হাওড়ার ওই নম্বরটি এক হোটেল মালিকের। তাঁকে জেরা করতে জানা যায়, বিহারের গ্যাংস্টার রঞ্জন যাদব অন্য একজনের ফোন থেকে কল করে এখানে থাকবে বলে জানিয়েছিল। রঞ্জন বলেছিল, একটা বড় কাজের জন্য সে নিজেই হাওড়া আসছে। দু’দিন থেকেই ফিরে যাবে গোপালগঞ্জে। তদন্তকারীরা এর থেকেই নিশ্চিত হন যে, সুরেশকে খুনের পিছনে রয়েছে রঞ্জনের গ্যাং।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়  গ্যাংস্টার রঞ্জনের বেশ কিছু অনুগামী রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তার। রঞ্জনের কাছ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসে এরাজ্যে থাকা তার শাগরেদরা। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর ভোরে রঞ্জন শার্প শ্যুটারদের নিয়ে হাওড়ায় চলে আসে। ওই হোটেলই কয়েক ঘণ্টা কাটায় তারা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তারা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে করে নিয়ে আসেনি। হাওড়ায় থাকা গ্যাংস্টারের কোনও শাগরেদ আগ্নেয়াস্ত্র জুগিয়েছিল। তবে ঘটনার সময় রঞ্জন খুব কাছেই ছিল। তার শার্প শ্যুটার বাহিনী গুলি করার পর শিবপুরের দিকে চলে যায়। তাদের জন্য আগে থেকেই একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করা ছিল। সেটি বুক করে দেয় রঞ্জনের আরেক শাগরেদ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, সেই ক্যাবে করেই শার্প শ্যুটাররা বেহালায় গিয়েছিল। এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, রঞ্জনের সেই শাগরেদ কলকাতায় রয়েছে। বেহালা থেকে গাড়ি বদল করে তারা বিহারে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সুরেশ খুনের জন্য রঞ্জন সুপারি পেয়েছিল গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছ থেকে। যার সঙ্গে সুরেশের শত্রুতা ছিল বলে জানা যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ