Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেহালা পশ্চিমে হাজারেরও বেশি ভোটারকে নোটিস, নাম বাদের ফর্ম জমা দিয়ে শুনানিতেই উধাও বিজেপি

এসআইআরের শুনানি পর্ব যত এগচ্ছে, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ‘গেরুয়া কৌশল’ যেন ততই বেআব্রু হচ্ছে!

বেহালা পশ্চিমে হাজারেরও বেশি ভোটারকে নোটিস, নাম বাদের ফর্ম জমা দিয়ে শুনানিতেই উধাও বিজেপি
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআরের শুনানি পর্ব যত এগচ্ছে, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ‘গেরুয়া কৌশল’ যেন ততই বেআব্রু হচ্ছে! ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও খড়দহে শতাধিক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছিল বিজেপি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেসব আবেদন ধোপে টেকেনি। এবার তেমনই অভিযোগ উঠল খাস কলকাতায়। পরিণতিও এক। জানা গিয়েছে, বেহালা পশ্চিম বিধানসভায় হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কাছে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছিল বিজেপি। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছিল, এঁদের বেশিরভাগই নাকি ভারতের বাসিন্দা নন। আশ্চর্যের বিষয় হল, ফর্ম-৭ জমা পড়ার কারণে ভোটারদের প্রত্যেককে শুনানিতে হাজির হতে হলেও বেপাত্তা বিজেপির অভিযোগকারীরা। যাঁদের নামে ফর্ম-৭ জমা পড়েছিল, তাঁদের নথি যাচাই করেছে জেলা প্রশাসন। কিছু ভোটারের শুনানি বাকি আছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সিংহভাগই বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে কেউ আবার কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিও করেছেন। 

Advertisement


তাহলে কীসের ভিত্তিতে এত ফর্ম-৭ জমা দেওয়া হল? স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে জেলার কাছে এই বিধানসভা থেকে এক লপ্তে অনেক ফর্ম-৭ জমা পড়ে। তা দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন আধিকারিকরা। কারণ, জেলার অন্যান্য বিধানসভা থেকে হাতেগোনা কয়েকটি ফর্ম-৭ জমা পড়েছিল। তাই কলকাতা পুরসভা এলাকার এই বিধানসভায় বিজেপির আপত্তি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। নাম ধরে ধরে খোঁজ নেওয়া হয়। বিএলওর মাধ্যমে তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়। শুনানিতে আসতে হওয়ায় প্রত্যেকেই তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। অকারণে তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে সোচ্চার হন অনেকে। যাঁদের নাম বাদ দিতে ফর্ম-৭ জমা পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে একজন রেল কর্মচারী রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের নাগরিক না হলে রেলে চাকরি পেলাম কীভাবে? বিজেপির যেসব বিএলএ ২-কে আসতে বলা হয়েছিল শুনানিতে, তাঁরা কেউ আসেননি।’ তাহলে কি এভাবেই প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিল পদ্ম-পার্টি? এই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, ‘আমাদের বিএলএ ২ যাঁরা আছেন, কিছু ভোটারকে নিয়ে তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। তাই তাঁদের নামে ফর্ম ৭ জমা করা হয়েছিল। এঁদের অনেককে বহুদিন এলাকায় দেখা যায়নি। অথচ ভোটার তালিকায় নাম আছে। তাতে কারও সন্দেহ হতেই পারে। শুনানিতে হাজির হওয়ার পর কী হবে, সেটা প্রশাসন দেখবে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সম্পাদক অঞ্জন দাস পালটা বলেন, ‘যাঁদের এখানকার নাগরিক নয় বলে প্রমাণ করতে বিজেপি এত কাঠখড় পোড়াল, তাঁরা দীর্ঘদিন বহাল তবিয়তেই এখানে বসবাস করছেন। অনেকের  ১৯৬০, ১৯৬১ সালের দলিল পর্যন্ত রয়েছে। যে তিনজন এই ফর্মগুলি জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের শুনানিতে হাজির থাকার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। একজন সেটা নিয়েছিলেন। মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য তাঁর নামে থানায় অভিযোগ হয়। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করে। বাকিরা কেউ সেই নোটিস নেননি। শুনানিতেও আসেননি।’ তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির সব অস্ত্রই এবার ভোঁতা হয়ে গিয়েছে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ