নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা নতুন করে পরীক্ষায় বসতে রাজি নন। সল্টলেকে বিকাশ ভবনের সামনে তাঁদের আন্দোলন চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিকাশ ভবনে হামলা, ভাঙচুর, পুলিসকে মারধরের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছিল পুলিস। বিভিন্ন ফুটেজ ও ছবি দেখে ওই ঘটনায় প্রায় ১৫ জনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১৫ জন অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নোটিস পাঠিয়ে বিধাননগর উত্তর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। নোটিসের শেষে স্পষ্ট লিখে দেওয়া হয়েছে, হাজির না-হলে বিএনএসএসের ৩৫(৬) ধারায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই করা হবে। অভিযুক্তদের সকলকে একসঙ্গে ডেকে না পাঠিয়ে বিভিন্ন তারিখে কয়েক দফায় তাঁদের ডাকা হয়েছে। আজ, সোমবার থেকেই হাজিরা শুরু
হচ্ছে তাঁদের।
বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে পুলিসের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিসের উপর যেমন বলপ্রয়োগের অভিযোগ আছেই। পাশাপাশি রয়েছে বিকাশ ভবনে ভাঙচুর, কর্তব্যরত পুলিসকর্মীদের মারধর, সরকারি কাজে বাধাদানসহ একাধিক অভিযোগ। ওই মর্মে বিধাননগর উত্তর থানায় পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও করেছে। সেখানে ৩২৯ (৩), ৩২৯ (৪), ১৯১ (২), ১২৬ (২), ১২৭ (২), ১২১, ২২৩ (বি), ২২৪ এবং ১৩২ বিএনএস অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চারটি ধারা জামিন অযোগ্য। পুলিস সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন থেকে বেরিয়ে কয়েকজন সরকারি কর্মী মেট্রোয় চাপার জন্য সেন্ট্রাল পার্ক স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানেও তাঁদের উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এক মহিলা পুলিস কর্মীর নাকের উপরের হাড় এবং উপরের পাটির দাঁত ভেঙে গিয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে ১৫ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, এই সংখ্যাটি বাড়বে। অন্যদিকে, শনিবার বিকাশ ভবনের আন্দোলনে নাবালক-নাবালিকা পড়ুয়াদের হাজির করা হয়েছিল। ওই ঘটনা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন। শিশু সুরক্ষা, শিশু শ্রম ও জুভেনাইল জাস্টিস আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ব্যাপারে তিনদিনের মধ্যে বিধাননগর কমিশনারেটকে রিপোর্ট দিতে বলেছে কমিশন।
যদিও কমিশনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবিবারও প্রায় ১৪ জন নাবালক-নাবালিকা পড়ুয়াকে হাজির করা হয়েছিল আন্দোলন স্থলে! সেখানে কিছুক্ষণের জন্য ‘পাঠশালা’ বসানো হয়। যদিও যে শিশুদের হাজির করা হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই প্রাথমিকের পড়ুয়া। অথচ, ‘আমরা স্কুলে যেতে পারছি না বলে এখানে ক্লাস করছি’, এই বলে ক্যামেরার সামনে চাকরিহারা হাইস্কুলের শিক্ষকরা তাঁদের ক্লাস নেন। ছিলেন চাকরিহারা দৃষ্টিহীন শিক্ষকও। শিশুদের হাজির করানো নিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিতরেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। রবিবার ফের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।