Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়নার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে নোটিস, বিজেপি নেতার মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে এনআইএ, অভিযোগ ছেলের

‘বাবার মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে এনআইএ। চন্দন মণ্ডলকে নোটিস পাঠানোর পর আমি এনআইএ অফিসে ফোন করে বলেছি, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা চলবে না।’

ময়নার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে নোটিস, বিজেপি নেতার মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে এনআইএ, অভিযোগ ছেলের
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, ময়না: ‘বাবার মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে এনআইএ। চন্দন মণ্ডলকে নোটিস পাঠানোর পর আমি এনআইএ অফিসে ফোন করে বলেছি, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা চলবে না।’ শনিবার ময়না ব্লকের গোড়ামহাল গ্রামে নিহত বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার আবক্ষ মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে এমনটা‌ই জানালেন তাঁর বড়ো ছেলে রঞ্জিত ভুঁইয়া। বাবার মূর্তি দেখিয়ে রঞ্জিত বলেন, ‘এই মূর্তি তৈরির জন্যও অর্থ দিয়েছেন চন্দনবাবু। বিপদের সময়ে তিনি পাশে দাঁড়িছিলেন। সেই অবদান ভুলি কী করে?’

Advertisement

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হলেই ময়নার বাকচা ও গোজিনা পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিজেপির দখলে চলে যায়। গত ১৫ বছর ধরে এই ‘ট্রাডিশন’ চলে আসছে। এবার সেই দৃশ্য উধাও। এলাকার দাপুটে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি উত্তম সিং শর্তসাপেক্ষে জামিনে আছেন। তিনি বাকচায় ঢুকতে পারছেন না। গোড়ামহাল গ্রাম থেকে জয়ী বাকচার উপপ্রধান বিজেপির প্রসেনজিৎ ভৌমিক বলেন, ‘ভোটে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বাকচা। অথচ, সেই বাকচা উন্নয়নে অগ্রাধিকার পায় না। মানুষ হানাহানি থেকে পরিত্রাণ চাইছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট হোক। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিক।’
বাকচা জনকল্যাণ হাইস্কুলের সামনে লাঠি হাতে হাঁটছিলেন ৭২ বছরের গোবিন্দ বিষয়। বাড়ি গোড়ামহাল উত্তরপাড়ায়। গোবিন্দবাবু বলেন, ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় এসে বলা হত, ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নেই। ভোট দিতে গেলে অশান্তি হবে। আমরা ঝামেলা এড়াতে ভোট দিতে যাই না। তবে, এবার যাব।
১৩ ফেব্রুয়ারি বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য চন্দন মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে ময়না বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী করে দল। চন্দনের বাড়ি গোজিনা পঞ্চায়েতে হলেও লাগোয়া বাকচার বহু নেতার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। সেকারণে চন্দন ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতাদের এবার সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করেছে দলেরই অফিসিয়াল গোষ্ঠী। তাই বাকচায় বিজেপির অন্দরে তৈরি হয়েছে অবিশ্বাস। সন্দেহজনক নেতাদের বাদ রেখে রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সংগ্রাম দোলইকে বিজেপিতে নেওয়ায় দলের ভিতর দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে। কারণ, বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়া খুনের ঘটনায় সংগ্রামও অভিযুক্ত। তাই এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছে না বাকচা ও গোড়ামহালের বিজেপি নেতাদের একাংশ।
বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই চন্দনবাবুকে নোটিস পাঠিয়েছিল এনআইএ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ বিজয়কৃষ্ণবাবুর পরিবার। গ্রামের ঢালাই রাস্তার ধারে নিহত ওই বিজেপি নেতার মূর্তির সামনে তাঁর দুই ছেলের বাড়ি। শনিবার সেখানে দাঁড়িয়ে বিজয়বাবুর বড় ছেলে বলেন, দল বদলের পরই চন্দনবাবুকে নোটিস দিল এনআইএ। আমি এজেন্সির অফিসারকে ফোন করে বলেছি, এনিয়ে রাজনীতি করা চলবে না। তারপর চন্দনবাবুকে আর এনআইএ অফিসে যেতে হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ