নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফলো করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। সেইসব পোস্ট যত বেশি সম্ভব শেয়ার, রি-টুইট করতে হবে। সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে এনিয়ে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত দু’টি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এহেন বিজ্ঞপ্তির কথা প্রকাশ পেতেই চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু’টি কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের একাংশ।
সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে শিক্ষামন্ত্রক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত যে দু’টি কলেজের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি হল শ্যামলাল কলেজ এবং শহিদ ভগৎ সিং ইভনিং কলেজ। দুই কলেজ কর্তৃপক্ষই গত ১২ মে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে সই রয়েছে দুই কলেজের অধ্যক্ষের। দু’টি বিজ্ঞপ্তিতেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক যোগেশ সিংয়ের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক উল্লেখ করে তা ফলো করে যত বেশি সম্ভব পোস্ট শেয়ার, রি-টুইট করার জন্য শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্রছাত্রীদের ‘বার্তা’ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে করা উপাচার্যের ব্যক্তিগত পোস্টও শেয়ার করতে বলা হয়েছে। এনিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠায় শুক্রবার শহিদ ভগৎ সিং ইভনিং কলেজের অধ্যক্ষ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু শ্যামলাল কলেজ এই বিষয়ে অনড়। শ্যামলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রবিনারায়ণ করের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘এর মধ্যে ভুল কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাদের অভিভাবক। তার পোস্ট শেয়ার করা হবে, রি-টুইট করা হবে, এটিই তো স্বাভাবিক। অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।’ একইসঙ্গে অধ্যাপক করের দাবি, ‘এই সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। পুরো বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। একটি ইন্টারন্যাল কমিউনিকেশন হয়েছে মাত্র।’ যদিও উল্লিখিত দু’টি কলেজেরই সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির কপি রয়েছে ‘বর্তমান’-এর হাতে। কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, ‘এহেন বিজ্ঞপ্তি জারি করে আদতে কেন্দ্রের শাসক দলের প্রোপাগান্ডাই চালাতে চাইছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়।’