নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি নিয়ম মেনে কিডনি দানের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি জোগাড় করতে ছ’মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়। কিন্তু অশোকনগর থানার তদন্তে যে কিডনি পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অনুমতি জোগাড়ের বিষয়টি মিটে যেত এক মাসের মধ্যেই! সৌজন্যে আলিপুর কোর্টের এক আইনজীবী। সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল, চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড গুরুপদ জানা ওরফে অমিত সহ এই কাণ্ডে ধৃত বাকিদের জেরা করে বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেগুলির ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবার ওই আইনজীবীকে নোটিস পাঠাল অশোকনগর থানা। সুসংগঠিতভাবে এরকম একটি পাচার চক্র চালানোর ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখাও শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কিছু ‘ক্লু’ হাতে আসবে তাঁদের। এছাড়া, আরও দু’টি কিডনি বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে পুলিস। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিডনি দানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা ও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে দু’টি পৃথক কমিটি আছে। আবেদন খতিয়ে দেখার পর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আওতাধীন ভেরিফিকেশন কমিটি তা ‘রেকমেন্ড’ করে পাঠিয়ে দেয় রাজ্যস্তরের কমিটির কাছে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় তারাই। সেই সঙ্গে কিডনি দানের ক্ষেত্রে আদালত থেকে এফিডেভিট করাতে হয় দাতাদের। এতগুলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই কিডনি দানের সবুজ সঙ্কেত মেলে। পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, এক্ষেত্রে আলিপুর আদালতের ওই আইনজীবীর হাতযশে গোটা আইনি প্রক্রিয়াটি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হতো। এমনকী, জেলাস্তরেই আবেদন বাতিল হয়ে গেলেও ওই আইনজীবী এবং এই চক্রে জড়িত জনৈক নেফ্রোলজিস্টের দৌলতে রাজ্যস্তর থেকে অনুমোদন চলে আসত। তাই এবার ওই আইনজীবীকে জেরার তোড়জোড় শুরু করেছে পুলিস। এনিয়ে বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, ‘আমরা তদন্তে আলিপুর আদালতের এক আইনজীবীর নাম জানতে পেরেছি। তাঁকে জেরা করার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হবে। আরও দু’টি নতুন অভিযোগ পেয়েছি। নতুন করে তদন্ত হবে। কিডনি দানের এই আবেদনকারীরা সুদখোর শীতলের কাছ থেকেই টাকা ধার নিয়েছিল।’ আইনজীবীকে জেরার পর এই কাণ্ডে বারবার নাম উঠে এসেছে যে নেফ্রোলজিস্টের, তাঁকে তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।



