Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর শহরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তায় দোকান উচ্ছেদের নোটিস, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকানই ভরসা। ওই দোকান থেকে আয়েই চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ব্যাঙ্কের ঋণের কিস্তি।

মেদিনীপুর শহরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তায় দোকান উচ্ছেদের নোটিস, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকানই ভরসা। ওই দোকান থেকে আয়েই চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ব্যাঙ্কের ঋণের কিস্তি। অথচ সেই দোকানই এবার উঠে যেতে বসেছে। মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা পুনর্বাসনের দাবি তুলে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন। মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য দোকান রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ১০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। সেই নোটিস ঘিরেই এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন।

Advertisement

ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরে ১৯৭৬ সালে বাসস্ট্যান্ড গড়ে ওঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে রাস্তার ধারে দোকান বসতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্ব বেড়েছে। পেটের তাগিদে বহু মানুষ রাস্তার ধারে ওই এলাকাতেই ছোটো ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক দশকে সেই দোকানগুলিই বহু পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে হকাররা কোথায় যাবেন? এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। প্রয়োজনে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে খাবারের হোটেল চালান সমীর বিশ্বাস ওরফে বাবু। এদিন দোকান খোলার পর তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তাঁর দুচোখ জলে ভরে যায়। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে এই দোকানের উপরেই আমার সংসার চলে। মাথার উপর ঋণ রয়েছে। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না। পানের দোকানদার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, দোকান তুলে দিলে সংসার কীভাবে চলবে, জানি না।
যদিও মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, ‘গোটা বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। একজন মানুষও যাতে সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে নজর রাখা হবে।’
এদিকে, পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, দোকান উঠে গেলে পরিবারের মুখে অন্ন জুটবে কীভাবে?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ