Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধিকারিকরা নন, পাথর পাচার কাণ্ডে মাথা টুলুই, আদালতে সওয়াল পুলিশের

তৃণমূল জমানায় বীরভূম জেলাজুড়ে টুলু মণ্ডলের কোটি কোটি টাকার জাল ডিসিআর চক্র সক্রিয় ছিল। দিনের পর দিন সরকারি রাজস্ব লুট হয়েছে। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে।

আধিকারিকরা নন, পাথর পাচার কাণ্ডে মাথা টুলুই, আদালতে সওয়াল পুলিশের
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: তৃণমূল জমানায় বীরভূম জেলাজুড়ে টুলু মণ্ডলের কোটি কোটি টাকার জাল ডিসিআর চক্র সক্রিয় ছিল। দিনের পর দিন সরকারি রাজস্ব লুট হয়েছে। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু, পুলিশ কি সত্যিই রাঘববোয়ালদের ধরতে চাইছে? নাকি তৃণমূল আমলের সেই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্তাদের আড়াল করতে স্রেফ চুনোপুঁটিদের ধরে তদন্তের নামে প্রহসন চলছে? বুধবার রাতে জাল ডিসিআর কাণ্ডে পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার কওসর আলি এবং ভূমিদপ্তরের আপার ডিভিশন ক্লার্ক বিশ্বজিৎ সাহাকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে। এদিন আদালতে খোদ সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, আধিকারিকরা নন, জাল ডিসিআর কাণ্ডে মাথা একমাত্র টুলুই! 

Advertisement

টুলুকাণ্ডে গ্রেপ্তার বিশ্বজিৎ সাহা সিউড়ির অরবিন্দপল্লির বাসিন্দা। তিনি মহম্মদবাজার ব্লক ভূমিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২২ সাল থেকে মহম্মদবাজারের চেকগেটগুলিতে ডিসিআর ইস্যু করার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, মহম্মদবাজার ব্লক থেকে যেসব আসল ডিসিআর বই ইস্যু হত, তা তিনি সরাসরি তুলে দিতেন টুলুর সিন্ডিকেটের হাতে। এরপর আসল বইয়ের ক্রমিক সংখ্যা হুবহু নকল করে জাল ডিসিআর ছাপা হত। আসল আর নকলের ফারাক বোঝা কার্যত অসম্ভব ছিল। নব্বইয়ের দশকের আবদুল করিম তেলগির জাল স্ট্যাম্প পেপার দুর্নীতির সঙ্গেই এই জাল ডিসিআর চক্রের হুবহু মিল পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এদিন আদালতকে সেকথা জানান সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তেলগি যেমন সরকারি নম্বর ও নকশা নকল করে জাল স্ট্যাম্পের রমরমা কারবার চালিয়েছিল, টুলু সিন্ডিকেটও ঠিক সেই পথেই কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুটেছে।
গত ১৭আগস্ট থেকে বিশ্বজিৎকে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বিশ্বজিৎ যে ডিসিআর ইস্যু করতেন সেই রেজিস্টারে ধৃত দ্বিতীয় জন অর্থাৎ কওসর আলির সই মিলেছে। এর আগে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা ও প্রচুর সোনা উদ্ধারের পরই মহম্মদবাজারের রাউতাড়ায় কওসরের চোখধাঁধানো ‘প্রাসাদে’ তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। তারপর থেকে তাকে বারবার থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। অবশেষে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, কওসর ছিল টুলুর অন্যতম প্রধান হিসাবরক্ষক। 
বৃহস্পতিবার ধৃতদের সিউড়ি আদালতে তোলা হলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করেন, বিশ্বজিৎ একজন সাধারণ কর্মী। তিনি যা করেছেন, তা তৎকালীন বিএলএলআরও এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নির্দেশেই করেছেন। তাঁরাও চান, সরকারের যে রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে তা উদ্ধার হোক। কিন্তু মাথারা সামনে আসছে না। জবাবে সরকারি আইনজীবী পুলিশের হয়ে সওয়াল করে বলেন, এই কাণ্ডের মাথা বিএলএলআরও বা তৎকালীন আধিকারিকরা নন, মাথা একমাত্র টুলুই। পালটা সোমনাথবাবু বলেন, এই সিন্ডিকেটে যাঁদের ধরা হচ্ছে তাঁরা চুনোপুঁটি। জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে তৎকালীন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের গ্রেপ্তার উচিত। 
কওসরের আইনজীবী রাফেউল হক তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জল শুধু নীচের দিকেই গড়াচ্ছে। উপরের দিকে যাচ্ছে না কেন? আমরা চাই, আসল সত্যটা সামনে আসুক। রাঘববোয়ালদের সামনে আনা হোক। দু’পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক ধৃতদের পাঁচদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৯তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ