নয়াদিল্লি: ‘ক্ষতের উপর সেলাইয়ের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।’ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়ার’র ভবিষ্যৎ ও ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে এভাবেই সন্দেহ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সাংসদ পি চিদম্বরম। রীতিমতো হতাশার সুর তাঁর কণ্ঠে। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষ বিজেপির ‘প্রচণ্ড শক্তিশালী’ সংগঠনের দরাজ প্রশংসাও করলেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা। আর চিদম্বরমের এই মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে শুক্রবার বিজেপি নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারির খোঁচা, ‘এমনকী রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতারাও জানেন, কংগ্রেসের কোনও ভবিষ্যৎ নেই।’
দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বৃহস্পতিবার একটি বইপ্রকাশের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদম্বরম। ওই অনুষ্ঠানে সলমন খুরশিদ ও মৃত্যুঞ্জয় সিং যাদবের লেখা ‘কনটেস্টিং ডেমোক্র্যাটিক ডেফিসিট: অ্যান ইনসাইট স্টোরি অব দ্য ২০২৪ ইলেকশনস’ শীর্ষক বইটি প্রকাশিত হয়। বক্তব্য রাখতে উঠে চিদম্বরম বলেন, ‘মৃত্যুঞ্জয় সিং যাদব যেমনটা বলেছেন, ভবিষ্যৎ মোটেও সেরকম উজ্জ্বল নয়। তাঁর হয়তো মনে হচ্ছে ইন্ডিয়া জোট এখনও অটুট। আমি নিশ্চিত নই। সলমন (খুরশিদ) হয়তো উত্তর দিতে পারবেন। কারণ তিনি ইন্ডিয়া জোটের আলোচনা টিমের সদস্য ছিলেন। এই জোট যদি সত্যিই সম্পূর্ণ অটুট থেকে থাকে, তাহলে আমি খুবই খুশি হব। কিন্তু ক্ষতের উপর সেলাইয়ের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। হাতে যা সময় রয়েছে তাতে ইন্ডিয়া জোটকে ফের সংগঠিত করা সম্ভব।’ বিরোধী ইন্ডিয়া জোট নিয়ে হতাশ চিদম্বরমের কণ্ঠেই এই অনুষ্ঠানে বিজেপির ঢালাও প্রশাংসা শোনা গিয়েছে। প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘আমি আমার অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের অধ্যায়ন থেকে বলতে পারি, সাংগঠনিকভাবে বিজেপির মতো এতটা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল আর নেই। প্রতিটি বিভাগে তারা শক্তিশালী। বিজেপি নিছক আর পাঁচটা রাজনৈতিক দলের মতো নয়। এ যেন এক মেশিন, যার পিছনে আরও একটি মেশিন রয়েছে। আর এই দুই মেশিন মিলে ভারতের সব মেশিনারি নিয়ন্ত্রণ করছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিস স্টেশন— সব কিছু। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ওরা নিয়ন্ত্রণ বা দখল করতে সক্ষম হয়েছে।’ ২০২৯ সালের লোকসভা ভোট নিয়ে চিদম্বরমের পূর্বাভাস কী? প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, হয় ওই শক্তিশালী মিশনারি (বিজেপি প্রসঙ্গে) এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে যে আমরা আর কোনওদিন মেরামতির সুযোগ পাব না। নয়তো দেশে পুরোদস্তুর গণতন্ত্র ফিরবে। ২০২৯ সালের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।