নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খড়্গপুর-২ ব্লকের মইশা গোটগেড়্যা গ্রামের প্রাচীন মনসা মন্দিরে পুজো ও মেলার প্রস্তুতি ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার মনসা মায়ের পুজো ও মহামেলা বসে। এবছর ৩১মার্চ থেকে ৪এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলবে। পুজো ও মেলায় কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় হবে বলে আশাবাদী কমিটির সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের তো বটেই, বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেকে এই মন্দিরে আসেন। এবছর পুজোর উদ্বোধনে ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেবকে নিয়ে আসার তোড়জোড় চলছে। মন্দির কমিটির সদস্যদের কথায়, মন্দির সংস্কারের জন্য মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, স্থানীয় বিধায়ক অজিত মাইতি, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ, বিধায়ক দীনেন রায় সাহায্য করেছেন। আগে মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশা ছিল। সমস্যায় পড়তে হতো সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের। তবে জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার হয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরটি ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, মা মনসা খুবই জাগ্রত। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন। এই পুজো কমিটির পাশে সর্বদা থাকব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুজো ও মেলা কমিটির সম্পাদক শ্যামলকুমার বেরা বলেন, এবছরের পুজোয় রেকর্ড ভিড় হবে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসবে। নিষ্ঠা সহকারে নিত্যপুজো হয়।
আনুমানিক ৪০০বছর আগে মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন জকপুরের জমিদার যজ্ঞেশ্বর রায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেইসময় মন্দির অনেকটাই ছোট ছিল। দিন দিন মন্দিরের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বেশ কয়েক বিঘা জমির উপর নবরূপে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মন্দিরে সমস্ত ধর্মের মানুষ আসে। এই মন্দিরে কোনও পুরোহিত পুজো করেন না। ভক্তরা নিজেদের পুজো নিজেরাই করেন। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার মনসা মায়ের পুজোয় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। মেলা ও পুজো কমিটির সভাপতি বারিন ভুঁইয়া বলেন, পুলিস ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এত বড়মাপের মেলা করা সম্ভব হতো না। এবছরের মেলায় তিন হাজারের বেশি স্টল থাকছে। কোটি টাকার বিক্রি হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু পুজো নয়, বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেন পুজো কমিটির সদস্যরা। তাঁরা স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেন। কমিটির তরফে বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ সহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়।
মন্দির কমিটির সদস্য সুনির্মল রাউল বলেন, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। আগামী দিনেও নানা সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করা হবে।