Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

‘ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, দলের স্বার্থই শেষ কথা’, সূর্যদের বিশ্বজয়ের রেসিপি ফাঁস গম্ভীরের

র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মা ফাইনাল ছাড়া ছন্দে ছিলেন না। র‌্যাংকিংয়ে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে থাকা বরুণ চক্রবর্তী ফাইনালেও মার খেয়েছেন।

‘ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, দলের স্বার্থই শেষ কথা’, সূর্যদের বিশ্বজয়ের রেসিপি ফাঁস গম্ভীরের
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মা ফাইনাল ছাড়া ছন্দে ছিলেন না। র‌্যাংকিংয়ে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে থাকা বরুণ চক্রবর্তী ফাইনালেও মার খেয়েছেন। আবার সারা প্রতিযোগিতায় তো বটেই ফাইনালেও পড়েছে লোপ্পা ক্যাচ। তারপরও বিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত। নিজেদের ক্ষমতার অর্ধেক মেলে ধরেই ঘরের মাঠে খেতাবরক্ষা। তবে কি এটাই কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে বিশ্বের সর্বকালের সেরা দল?

Advertisement

ইরফান পাঠানের অন্তত তেমনই মত। তাঁর ঘোষণা, ‘কোনও সংশয় নেই। এই ঘরানায় এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ কী আশ্চর্য, ভারতবিরোধী মন্তব্যের জন্য প্রসিদ্ধ মাইকেল ভনও তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করছেন। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক টুইট করেছেন, ‘আমি তো বলব, সাদা বলের ক্রিকেটের সেরা দল। শুধু টি-২০ নয়, ৫০ ওভারের ফরম্যাটেও বাকিদের থেকে অনেক এগিয়ে ভারত। ওরা অন্য পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছে খেলাটাকে।’ ঘটনা হল, গত তিন বছরে এসেছে তিনটি আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে রোহিতের অধিনায়কত্বে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়। পরের বছর তাঁর নেতৃত্বেই আসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আর এবার সূর্যর হাতে উঠল কুড়ি ওভারের কাপ। দাপট অস্বীকারের জায়গাই নেই!
এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার নেপথ্যে রয়েছে টিম গেমের তত্ত্ব। ব্যক্তিগত কীর্তি মূল্যহীন যদি না তা দলীয় সাফল্যের ভিত গড়ে। এটাই গৌতম গম্ভীর ও সূর্যকুমার যাদব জমানার মূল মন্ত্র। বিশ্বকাপ হাতে মিডিয়া কনফারেন্স পৌঁছে পরিষ্কারভাবে সে কথা জানিয়ে দিলেন গৌতম গম্ভীর। বিজয়ী কোচের বক্তব্য, ‘এই দলে কেউ নব্বইয়ের ঘরে গিয়েও সিঙ্গলস নিয়ে সেঞ্চুরি নিশ্চিত করার পথে হাঁটে না। বরং ছক্কা মারার বল পেলে চালায়। ওরা জানে, নব্বইয়ের ঘরে আউট হলেও ড্রেসিং-রুমে ততটাই প্রশংসা মিলবে, যতটা শতরান করলে মিলত। তাছাড়া পঞ্চাশ বা একশোর লক্ষ্যে পাঁচটা বল যদি কেউ খুচরো রান নেয়, তবে আখেরে দলেরই কুড়িটা রান কমে যায়। এই পর্যায় সেটাই জেতা-হারা নির্ধারণ করে দেয়। আমরা বড্ড বেশি ব্যক্তিগত মাইলস্টোনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সেটা বন্ধ হওয়া উচিত। তাই আমি বলব, ট্রফি জয় সেলিব্রেট করুন, ব্যক্তিগত কীর্তি নয়। কারণ দলগত খেলার মাধুর্য সাফল্যেই।’
টানা তিনটি নক-আউট ম্যাচে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তবু দলের স্বার্থে চালিয়ে খেলে আউট হয়েছেন। সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ কখনও তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি। নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপজয়ী দলটার এটাই বড় বৈশিষ্ট্য। আমি নয়, আমরা। আর সেজন্যই ফর্মে না থাকা অভিষেক শর্মার পাশে ছিলেন প্রত্যেকে। বরুণ চক্রবর্তীকেও আগাগোড়া আগলে রেখেছেন সূর্যরা। একজনের ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছেন অন্য একজন। অভিষেক-বরুণ যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, সেদিকে ছিল সতর্ক নজর। সূর্যরা যে সাফল্য পাবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ