বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রোগী পিছু ডাক্তারের সময় মেলে গড়ে মাত্র ২ মিনিট! তার জন্য অপেক্ষা তিন থেকে চার ঘণ্টার! এর সঙ্গে আছে যাতায়াতের সময়। তাই সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে একবার ডাক্তার দেখাতে এলে ‘দিন আনি-দিন খাই’ মানুষের একটা দিন চলে যায়। তাছাড়া, এখন কাজের ধরন পালটাচ্ছে। দশটা-পাঁচটার বাঁধা গতের চাকরি অতীত। সরকারি কর্মীরাও এমন ‘সুখের রুটিন’ পান না তেমন। আর প্রাইভেটে তো সময়ের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথাগত আউটডোরের পাশাপাশি বিকেলের আউটডোর বা ইভিনিং ওপিডি (বেলা ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা) চালুর সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্যদপ্তর। দিন ১৫ আগে বৈঠকে জেলার সিএমওএইচদের একথা জানান এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা। কোথায় লোকবল কেমন, তা বুঝে নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালগুলিতে এই আউটডোর চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে এই পরিষেবা চালু হবে সব সুপার স্পেশালিটি, স্টেট জেনারেল, মহকুমা ও জেলা হাসপাতালে। স্ত্রীরোগ-প্রসূতি ও শিশু বিভাগের আউটডোর প্রথম চালু হবে। তারপর লোকবলের অবস্থা দেখে (প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ৪-৫ জন চিকিৎসক থাকলে) অন্য বিভাগেও তা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
প্রসঙ্গত, সময়ের দাবি মেনে রাজ্যের বিভিন্ন বড় ও মাঝারি প্রাইভেট হাসপাতালে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালু হয়েছে কয়েক বছর আগে। সরকারি ক্ষেত্রেও এই আউটডোর চালু হলে মানুষ তুলনামূলক কম ভিড়ে ডাক্তার দেখাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একটা গোটা দিনও নষ্ট হবে না। তবে ডাক্তার দেখিয়ে যাঁরা দূরবর্তী এলাকায় ফিরবেন, তাঁদের কিছুটা সমস্যা হতে পারে।
বর্তমানে রাজ্যে ১৪টি জেলা হাসপাতাল রয়েছে। সুপার স্পেশালিটি, মহকুমা ও স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ধরলে আরও ৭১টি। এই ৮৫টি মাঝারি স্তরের হাসপাতালে ইভিনিং আউটডোর চালু হবে। আজ, সোমবার থেকে বালুরঘাট, শিলিগুড়ি সহ বেশ কিছু জেলা হাসপাতালে চালু হচ্ছে পরিষেবা। শিলিগুড়িতে গাইনি ও শিশু বিভাগ ছাড়াও মেডিসিন এবং সার্জারি বিভাগের ইভিনিং ওপিডি চলবে। ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার এক শীর্ষকর্তা জানান, সোমবার থেকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে এটি শুরু হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ‘কোল্ড কেস’ রোগীদের সন্ধ্যাবেলায় ইমার্জেন্সিতেই দেখা হত। তাঁদের হিসেব রাখতে আলাদা খাতা রাখতে বলা হয়েছে। আলাদাভাবে সান্ধ্যকালীন আউটডোরের টিকিট করা হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের হাসপাতালগুলিতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে এই পরিষেবা।
যদিও এই নির্দেশ নিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসকদের একাংশ বেশ ক্ষুব্ধ। একাধিক জেলা ও মহকুমা হাসপাতালের সুপারের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, কর্মী না পেলে কীভাবে চলবে এই আউটডোর? ইতিমধ্যে তাঁরা অনেকে এর জন্য আরও ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, গ্রুপ ডি কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী চেয়েছেন। তাছাড়া, সন্ধ্যাবেলায় বহু ডাক্তারের প্র্যাকটিসের ‘পিক টাইম’। তখন আদৌ তাঁদের আউটডোরে ধরে রাখা যাবে তো? সে প্রশ্নও রয়েছে।