রাঁচি: ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বলটা তখনও টপকায়নি বাউন্ডারি লাইন। দৌড়তে দৌড়তে নন স্ট্রাইকার এন্ডে এসে লাফিয়ে উঠলেন বিরাট। সিংহের মতো গর্জন করতে করতে ডান হাত ছুড়লেন শূন্যে। নিন্দুকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট, আমি ফুরিয়ে যাইনি। একইসঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা নিয়ে বিতর্কের জবাবও থাকল ম্যাচ শেষে। সেরার পুরস্কার হাতে বলেই ফেললেন, ‘কখনও মাঠের প্রস্তুতিতে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে ক্রিকেট পুরোটাই মানসিক প্রস্তুতির। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে থাকি। তাই ফিটনেস যতদিন ঠিক আছে, অন্যকিছু নিয়ে ভাবি না। তিনশোর বেশি ম্যাচ খেলেছি। খেলার সঙ্গে জড়িত থাকলে, প্র্যাকটিসে ব্যাটে-বলে করতে পারলে, নেটে ঘণ্টাখানেক ব্যাট করলেই যথেষ্ট। একমাত্র ফর্মে না থাকলেই নেটে বেশিক্ষণ ব্যাট করার প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া পুরোটাই মানসিকভাবে তৈরি থাকার উপর নির্ভরশীল। খেলাটাকে উপভোগ করা জরুরি।’ বিজয় হাজারে ট্রফিতে কেন খেলেননি, সেটাই যেন বুঝিয়ে দিলেন।
মহাতারকার সেঞ্চুরি-সেলিব্রেশনে সঙ্গী হতে দেখা গেল কোচ গৌতম গম্ভীরকেও। করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার। তবে দিনের সেরা ছবিটা দেখা গেল সমাজমাধ্যমে। ড্রেসিং-রুমে ফেরার পর কোহলিকে বুকে টেনে নিয়েছেন গুরু গম্ভীর। দূরত্ব ঘোচার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তবে তিনি গৌতম। না আঁচালে বিশ্বাস নেই। কোহলিকে টেস্ট স্কোয়াডে ফেরানোর জোরালো দাবিও উঠল রাঁচিতে। ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে তো সোজাসুজি জিজ্ঞাসাই করে ফেললেন, ‘তবে কি ভবিষ্যতেও শুধু একটা ফরম্যাটেই দেখা যাবে?’ বিরাটের উত্তর, ‘হ্যাঁ, আমি শুধু একদিনের ফরম্যাটেই খেলব।’ দু’বছর পরের বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে যদিও কিছু বললেন না। বাস্তবেই থাকতে চাইছেন। তাঁর মতে, ‘এই পর্যায়ে আমার যা অভিজ্ঞতা তাতে ফিট থাকাটাই আসল। মানসিক প্রস্তুতি, খেলার রোমাঞ্চ যেন থাকে। তাহলেই বাকিটা ঠিক হয়ে যাবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মালিক ভিকে। দুটো বিশ্বকাপের মালিকও। যে কোনও ফরম্যাটের নিরিখে সর্বাধিক সেঞ্চুরি (৫২টি ওডিআই সেঞ্চুরি) এখন তাঁরই। বিরাট পিছনে ফেললেন শচীনকেও (৫১টি টেস্ট সেঞ্চুরি)। তার পরেও কি কোচ গৌতম গম্ভীরের ভরসা অর্জনে সফল হলেন তিনি? নাকি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলানো নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকবে? তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের পর প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছিল বিরাটের কাছে বড় পরীক্ষা। কিন্তু তিনি যে ‘কিং’ কোহলি। বাইশ গজ তাঁর সাম্রাজ্য। হতে পারে ২৮০ দিন সময় লাগল ৫২তম ওডিআই শতরানে পৌঁছোতে, কিন্তু তাঁর টেম্পারামেন্ট, টাইমিং, দায়িত্ববোধই বুঝিয়ে দিল— খিদেটা এখনও একই রকম রয়েছে। নায়ক বললেন, ‘আমি মনে মনে ম্যাচের ছবি আগাম কল্পনা করি। ৩৭ বছর বয়স হয়ে গেল, শরীরের যত্ন নেওয়াটাও দরকার। সেজন্যই এই ইনিংসটা তৃপ্তি দিচ্ছে। পরের দিকে পিচ মন্থর হয়ে গিয়েছিল। অভিজ্ঞতা থেকে জানতাম কীভাবে ইনিংসটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ এই জয় টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের ক্ষতে দিল কিছুটা প্রলেপ। তারুণ্যের জয়গান অনেক হল। সিনিয়র ক্রিকেটারদের কতটা প্রয়োজন, সেটা বুঝিয়ে দিল রো-কো জুটি। গম্ভীর, আগরকরদের বোঝা উচিত, সজনে ডাঁটা দিয়ে আর যাই হোক, বিরিয়ানি রাঁধা যায় না।