নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিছক ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নয়, কোনো রাজনৈতিক দলেরও নয়, এবার লড়াই গণতন্ত্র রক্ষার! শুধু যে জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতে হবে, তা নয়। তিনি যে দু’জনের নির্দেশে ভোট চুরি করেছেন, সেই নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকেও আগামী দিনে বিদায় নিতে হবে। আর তার শুরুটা হবে আগামী রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে। মোদি-শাহের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রারও সূচনা হবে সেদিন। শুক্রবার এমনই হুংকার দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সাফ কথা, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের গণতন্ত্র-ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জনতার প্রতিবাদ। যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন, দেশবাসীর আন্দোলন চলবে। আর এই আন্দোলনের সবথেকে বৃহৎ মঞ্চ হতে চলেছে দিল্লির রামলীলা ময়দান। একা রাহুল নন, বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র তামাম নেতৃত্ব ও নাগরিক সংগঠনগুলি এদিন রাজধানীতে একজোট হয়ে আহ্বান জানিয়েছে— ‘রাজনৈতিক দল, অরাজনৈতিক সংগঠন, নাগরিক মঞ্চ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র,যুব, গৃহবধূ সকলে আসুন। রামলীলা ময়দান থেকে শুরু হোক ভোট চুরির বিদায়ঘণ্টার সূত্রপাত।’ ককরোচ জনতা পার্টি, আইসা নেত্রী নেহা বোরাও সমর্থন জানিয়েছেন রামলীলায় এই বিরোধী কর্মসূচিকে।
রাহুল স্বয়ং এহেন আহ্বানের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ভোট চুরির বিরুদ্ধে অনেক বিক্ষোভ-আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু সেগুলিকে আলাদা আলাদা ভাবার কোনো কারণ নেই। সব আন্দোলন আসলে একটাই। এ হল দেশবাসীর প্রতিবাদ, ক্রোধ, ক্ষোভের প্রকাশ।’ এদিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ইমপিচমেন্টের কর্মসূচি নিয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’। কিন্তু রাজধানীতে লাগাতার বর্ষণের জেরে তা স্থগিত হয়ে যায়। আজ, শনিবার সেই কর্মসূচি হওয়ার কথা। পরদিনই দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ। ফলে ইতিমধ্যেই সাজো সাজো রব বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস নেতা এদিন বলেছেন, ‘প্রথমে হবে পদযাত্রা। রামলীলায় ভারতের জনগণ পদযাত্রা করে পৌঁছাবে। ভয় পাবেন না। যে যেখানে আছেন, আসুন।’ তবে একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘এই সভায় যাতে কেউ আসতে না পারে, সেজন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হাজার হাজার মানুষকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু অমিত শাহ, আপনি কত মানুষকে আটকাবেন? তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি মানুষ আসবে। আসতে শুরুও করেছে। রবিবার শুধু রামলীলা মোদি, শাহ, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে না, গোটা দেশ এই ভোট-চোরদের হুঁশিয়ারি দেবে যে, তাঁদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।’
রামলীলা ময়দানের সভা ঘিরে বিজেপি বনাম বিরোধী রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোট হিন্দু ধর্মের বিরোধী। তাই দীপাবলি, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, ছট পুজোর মতো একের পর এক ধর্মীয় সাংস্কৃতিক উৎসবের সময় সাধারণ মানুষ যখন উপহার কেনাকাটা করছে, তখনই দিল্লির কেন্দ্রস্থলকে স্তব্ধ করে দিতে চলেছেন রাহুল গান্ধীরা। পালটা ‘ইন্ডিয়া’র বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগের ঘোষণা করলেই সব কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়া হবে। ভোটও চুরি করবেন, আবার নীতিকথা শোনাবেন, এসব ভারতবাসী মেনে নেবে না। বিধান পরিষদের ফল সেটা দেখিয়ে দিয়েছে।



