উদ্যানপালনে জাতীয় গড়ের থেকে পিছিয়ে জম্মু-কাশ্মীর
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: উদ্যানপালনের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ ঘটলেও উৎপাদনের নিরিখে এখনও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৪.২৯৮৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে ফসল চাষ হয়েছে। আনুমানিক উৎপাদনের পরিমাণ ৪০.৩৫ লক্ষ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ৯.৩৯ টন। সেখানে জাতীয় গড় উৎপাদনের হার ১২.৫৩ টন প্রতি হেক্টর। অর্থাৎ, উন্নত কৃষিপদ্ধতি সত্ত্বেও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রতি হেক্টরে ৩.১৪ টন কম উৎপাদন হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, অর্থনীতির নিরিখে এই ব্যবধান রীতিমতো চিন্তার বিষয়। কারণ, কাশ্মীরে উদ্যানপালন ক্ষেত্র থেকে বছরে আনুমানিক ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের জীবিকা এর উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি, জম্মু-কাশ্মীরের মোট জিডিপিতে উদ্যানপালন ক্ষেত্রের অবদান প্রায় ৬-৭ শতাংশ। বাগান থেকে ফসল তোলার পরেও বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত ফল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ঘাটতি আরও বাড়ছে। নীতি আয়োগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফসল তোলার পর প্রায় ৫ লক্ষ টন আপেল নষ্ট হয়। যার জন্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১,৫০০ কোটি টাকা। উদ্ভিদবিদ ও উদ্যানপালন বিশেষজ্ঞ ইরশাদ আজিজ বলেন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে এই ব্যবধানের ফলে চাষিদের তাজা ফলের বাজারের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে। সেখানে দামের ওঠানামা এবং পরিবহণে দেরির কারণে পচনশীল ফলের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও উৎপাদন বাড়াতে ইতিমধ্যেই হোলিস্টিক এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচএডিপি) চালু করেছে সরকার। ফসলের গুণমান উন্নত করা এবং বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ আরও মজবুত করাই এর মূল লক্ষ্য।

Advertisement