Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

থিম নয়, বোলপুরে চলতি বছর সাবেকি প্রতিমার চাহিদাই বেশি

পুজোর আর হাতে গোনা একমাস। অজয়ের পাড়ে কাশফুল ফুটতে শুরু করতেই বোলপুরের মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে

থিম নয়, বোলপুরে চলতি বছর সাবেকি প্রতিমার চাহিদাই বেশি
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: পুজোর আর হাতে গোনা একমাস। অজয়ের পাড়ে কাশফুল ফুটতে শুরু করতেই বোলপুরের মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ত্রিশূলাপট্টি-সহ শহরের বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের ঘরে এখন দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। বোলপুরের প্রতিমা যাচ্ছে আমোদপুর, লাভপুর ছাড়িয়ে পাশের বর্ধমান জেলাতেও। তবে এবারে প্রতিমার চাহিদায় বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। থিমের বদলে সাবেকি দুর্গাপ্রতিমার চাহিদাই বেশি।

Advertisement

গত কয়েক বছরে থিমপুজোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেবীর প্রতিমাতেও নানা নতুনত্ব দেখা যেত। এবার সেই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। পুজো উদ্যোক্তাদের বড় অংশ সাবেকি আদলের প্রতিমার বরাত দিচ্ছেন। বোলপুরের ত্রিশূলাপট্টির মৃৎশিল্পী গোকুলানন্দ পাল কয়েক দশক ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজে সহযোগিতা করছেন ছেলে সৌমিত্র পাল। তিনি বলেন, এবার প্রায় ৫০টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছি। সাবেকি প্রতিমার বরাতই সবচেয়ে বেশি। তবে প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে। সুতলি দড়ির দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রতিমার সাজসজ্জার সামগ্রীর দাম। ফলে প্রতিমা তৈরির খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে দাম খুব বেশি বাড়াতে পারছেন না শিল্পীরা। এক একটি প্রতিমার উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৯ ফুট। সাজসজ্জা দেওয়ার পর উচ্চতা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৬ ফুট। প্রতিমার দাম শুরু হচ্ছে ১০ হাজার টাকা থেকে। আকার, কাজ ও সাজের উপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এবারের মরশুমে আবহাওয়াও শিল্পীদের চিন্তায় রেখেছে। টানা বৃষ্টিতে প্রতিমার মাটি শুকোতে সমস্যা হয়েছে। ফলে যাঁরা দেরিতে কাজ শুরু করেছেন, তাঁদের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আগে থেকে কাঠামো তৈরি করে কাজ শুরু করা শিল্পীদের সমস্যা তুলনামূলক কম হয়েছে। বৃষ্টির হাত থেকে প্রতিমা বাঁচাতে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে চলছে কাজ। রাজ্যে সরকার বদলের প্রভাবও প্রতিমার বরাতে পড়েছে বলে শিল্পীদের দাবি। বিজেপি সরকার গঠনের পর কয়েকটি পুজো কমিটি দুর্গার পাশাপাশি শিব ও ছত্রপতি শিবাজির মূর্তির বরাত দিয়েছে। বিভিন্ন মণ্ডপে দেবীর পাশাপাশি ওই মূর্তিগুলি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি অন্য মূর্তি তৈরির কাজও পেয়েছেন শিল্পীরা। সরকারি পুজোর অনুদান নিয়েও এবার বদল এসেছে। আগের সরকারের সময়ে অধিকাংশ পুজো কমিটি অনুদান পেলেও নতুন সরকারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে অনুদান পাওয়া নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। অনুদানের উপর নির্ভরশীল পুজোগুলিতে বাজেট নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে হিসেব। দুর্গাপুজোর আগে অবশ্য একাধিক উৎসবের বরাত পেয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। শ্রাবণ মাসে শিবের মূর্তি ও কৌশিকী অমাবস্যায় দেবী তারার প্রতিমা তৈরি করেছেন তাঁরা। গণেশ চতুর্থীতেও চাহিদা ছিল বেশি। সামনে বিশ্বকর্মা পুজো। তারপরই দুর্গাপুজো। ফলে আগামী একমাস কার্যত টানা কাজ করতে হবে শিল্পীদের। বিজেপি নেতা সুমিত মণ্ডল বলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। সনাতনীদের জয় হয়েছে। এবার মানুষ আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুজোর আনন্দ করবেন। পুজোকে ঘিরে মানুষের উৎসাহও বাড়বে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ