রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: ‘আমরা ফের ক্ষমতায় এলে একটিও কাঁচা বাড়ি থাকবে না। সব মাটির বাড়ির মালিক মাথার উপর ছাদ পাবেন। সেইসঙ্গে প্রতিটি পরিবারের কাছে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে।’ রবিবার রাইপুরের নির্বাচনি জনসভা থেকে এমনই প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে রাইপুর সবুজ সংঘের মাঠে দলের প্রার্থী ঠাকুরমণি সোরেনের সমর্থনে তৃণমূলনেত্রী সভা করেন। ওই সভায় তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার বাকি পাঁচ প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলনেত্রী তাঁদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত লোকজনের পরিচয় করিয়ে দেন। এদিনের সভায় বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী সহ জেলা তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন দুপুরে সভাস্থলের কোণের আকাশে তৃণমূলনেত্রীর হেলিকপ্টার চক্কর কাটতেই জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। হাততালি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রাইপুরবাসী স্বাগত জানান। তৃণমূলনেত্রীও হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় হাত নেড়ে পাল্টা উপস্থিত লোকজনের অভিবাদন গ্রহণ করেন। সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূলনেত্রী ২০২১ সালের ভোট প্রচারের স্মৃতি রোমন্থন করেন। সেবার ঝড়, শিলাবৃষ্টির জেরে তাঁকে সড়কপথে খড়্গপুর রওনা হতে হয়েছিল বলে তিনি জানান। মমতা বলেন, বাঁকুড়ার মেধা দেশজুড়ে স্বীকৃতি আদায় করেছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে এজেলার জয়জয়কার হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাঁকুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। জেলার রাস্তাঘাট, সেতু, জল প্রকল্পও হয়েছে। আমাদের আমলে বিষ্ণুপুরের বালুচরি শাড়ি জিআই ট্যাগ পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে বাঁকুড়ার বালুচরি শাড়িকে আমরা তুলে ধরেছি। বাইরে কোথাও গেলে উপহার দেওয়ার জন্য এজেলার বালুচরি শাড়ি অথবা ডোকরা শিল্পীদের তৈরি দুর্গামূর্তি সঙ্গে নিয়ে যাই।
তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, আমরা জঙ্গলমহলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন সন্তান বাইরে গেলে বাবা-মাকে বাড়ি ফেরা নিয়ে ভাবতে হয় না। হঠাৎ বাস বন্ধের জেরে কাউকে মাঝরাস্তায় রাত কাটাতে হয় না। বাম আমলে জঙ্গলমহলের মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাত। আমরা আসার পর খাদ্যসাথী প্রকল্প চালু করি। বহু মানুষ সরকারি চাল, গম পেয়ে উপকৃত হয়েছে। আমরা জঙ্গলমহলের বহু মানুষকে দারিদ্রসীমার উপরে তুলেছি। এখনো কিছু বাড়ি মাটির রয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছি। ফের ক্ষমতায় এলে সব বাড়ি পাকা হয়ে যাবে। জল পৌঁছয়নি এমন বাড়িতেও আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল চলে যাবে।
এদিনের সভামঞ্চে রাইপুর বিধানসভার দু’বারের বিজেপি প্রার্থী সুধাংশু হাঁসদা তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি ২০১৬ ও ২০২১ সালে রাইপুর থেকে ভোটে লড়েন। সুধাংশুবাবু বলেন, বিজেপি-র নীতি আদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। দলের বিচ্যুতি হয়েছে। আদিবাসীদের বিজেপি সেভাবে সম্মান করে না। তৃণমূল আদিবাসীদের প্রকৃত উন্নয়ন করেছে। সেই কারণে আমি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, টিকিট না পাওয়ায় সুধাংশু হাঁসদা তৃণমূলে গিয়েছেন। তিনি যাওয়ায় আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপবাবু বলেন, আদিবাসীদের অপমান করায় বিজেপিতে আর কেউ থাকতে চাইছেন না। সেই কারণে ওই দলে ভাঙন ধরেছে। আদিবাসীদের প্রকৃত
উন্নয়ন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই
হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র