Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্কমুক্ত চা, মার্কিন মুলুকে বাড়বে রপ্তানি, খুশি উত্তরের বাগান মালিকরা

কয়েকদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে ভারত। এবার আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত নয়া বাণিজ্য চুক্তিতে জিরো ট্যারিফ অর্থাৎ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে চা।

বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্কমুক্ত চা, মার্কিন মুলুকে বাড়বে রপ্তানি, খুশি উত্তরের বাগান মালিকরা
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০২
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: কয়েকদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে ভারত। এবার আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত নয়া বাণিজ্য চুক্তিতে জিরো ট্যারিফ অর্থাৎ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে চা। এতে মার্কিন মুলুকে এ রাজ্যের চায়ের রপ্তানি অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে উত্তরবঙ্গের চা শিল্প মহল। আমেরিকায় ব্ল্যাক টি’র প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি পাওয়ায় এনিয়ে আরো বেশি করে আশার আলো দেখছেন উত্তরের চা বাগান মালিকরা। কারণ, অসমের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে যথেষ্টই ভালো মানের ব্ল্যাক টি উৎপাদন হয়। ফলে রপ্তানিযোগ্য ওই চা আমেরিকায় বাজার পাবে বলে আশা ডুয়ার্সের চা শিল্প মহলের।

Advertisement

গত বছর ভারত থেকে আমেরিকায় ১৭ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে। যার মধ্যে দার্জিলিং, অসমের চা রয়েছে। নয়া বাণিজ্য চুক্তির ফলে চা শুল্কমুক্ত হয়ে গেলে রপ্তানির পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এদিকে, এতদিন ভারত থেকে মূলত জার্মানিতে চা যেত। তারপর সেখান থেকে পৌঁছত ইতালি, ফ্রান্স সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে এখন সরাসরি ভারত থেকে ইউরোপের যে কোনো দেশে চা রপ্তানির পথ খুলে গেল। যদিও সেখানে চা পাঠানোর ক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট (এমআরএল) অন্যতম মাপকাঠি। অর্থাৎ বাগানে ব্যবহৃত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের পরিমাণ কতটা চায়ের মধ্যে থাকছে, তার উপর বিচার করেই ইউরোপে রপ্তানিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে এখানকার চা।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ভারত প্রায় ২৫৫ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করেছে বিদেশে। ডিসেম্বরের হিসেব এখনো আসেনি। তবে আমরা নিশ্চিত এবার চা রপ্তানিতে রেকর্ড তৈরি হবে। সেইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আমেরিকার সঙ্গে নয়া বাণিজ্য চুক্তিতে চা শুল্কমুক্ত হওয়ায় আগামী দিনে রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়বে। বিজয়গোপালের দাবি, আমেরিকা বর্তমানে আর্জেন্টিনার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি চা কেনে। কিন্তু সেখানকার মানুষজন কফি ছেড়ে চায়ের দিকে ঝুঁকছেন। গ্রিন টি’র পাশাপাশি ব্ল্যাক টি’র প্রতি তাঁদের ঝোঁক তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো খবর। কারণ, উত্তরবঙ্গে অনেক বাগানে উৎকৃষ্ট মানের ব্ল্যাক টি তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবে দার্জিলিংয়ের অর্থোডক্স চায়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের সিটিসি মার্কিন মুলুকে বাজার ধরতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে উত্তরবঙ্গের চা মার্কিন মুলুকে বাজার জমাতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী। এতে উত্তরের চা শিল্পে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ