নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: পূর্বাভাস ছিলই, মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতাসহ সংলগ্ন জেলার একাংশ। জলবন্দি উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান জল জমে যায়। বিটি রোড সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, থানা, স্কুল-কলেজ চত্বর জলের তলায় চলে যায়। যান চলাচল থমকে যাওয়ায় অফিস কর্মীরা বিপাকে পড়েন।
বরানগরের ঘোষপাড়া মোড় থেকে ডানলপ পর্যন্ত জলের তলায় চলে যায়। টবিনরোড, বনহুগলি, আলমাবাজার এলাকায় কোমর থেকে হাঁটু সমান জল দাঁড়ায়। কামারহাটির বিটি রোড, নন্দননগরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছিল। পানিহাটির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ঘোলা থানা জলের তলায়। আগরপাড়া, এইচবি টাউন সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কোমর সমান জল। খড়দহ, উত্তর দমদম, নিউ বারাকপুরের বিভিন্ন এলাকার একই হাল। কল্যাণী রোড লাগোয়া রাস্তার দুই পাশের অবস্থা ভয়াবহ। দক্ষিণ দমদম ও দমদম পুরসভার মধ্যে দমদম রোড, পি কে গুহ রোড থেকে শুরু করে ওয়ার্ড এলাকার রাস্তাতেও জল দাঁড়িয়েছিল। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যায়। বারাকপুর শহরের সেন্ট্রাল রোড, হরিসভা, রবীন্দ্রপল্লিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জল জমে টিটাগড় পুরসভা চত্বরেও। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দু’ধারে ভাটপাড়া নৈহাটিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। বারাকপুর স্টেশন চত্বরেও জল জমে যায়। বনগাঁ পুরসভা এলাকার রাস্তা জলমগ্ন হয়েছে। কিছু সময় পর জল সরে যায়। চাকদহ শহরের বৃষ্টির জল জমে রাস্তা ও নিকাশি নালা প্লাবিত হয়েছে। হরিণঘাটা শহরের কিছু নীচু এলাকার রাস্তায় জল জমেছে। ঝড়ে ও বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাদুড়িয়া ব্লকের বহু কৃষক। পুঁই শাক, পটল, কাঁকরোল, উচ্ছে, পেঁপে ও কলাগাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গিয়ে সাময়িক ভাবে বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা।
জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবার ভোর থেকে তীব্র আকার নেয়। দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির জেরে টিকিয়াপাড়া, সালকিয়া, ঘুসুড়ি, বেলগাছিয়া ও শিবপুরের একাধিক রাস্তায় জল জমে যায়। বেলুড় স্টেশন রোডেও হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন স্কুলপড়ুয়া থেকে প্রবীণ নাগরিকরা। বেলুড় স্টেশন আন্ডারপাস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়। হাওড়া পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানান, জল দ্রুত নামানোর জন্য লাগাতার পাম্প চালানো হচ্ছে।
রাজপুর সোনারপুর, ডায়মন্ডহারবার থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুর এলাকায় অফিস যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ক্যানিং মহকুমা এলাকায় জল জমলেও পরে তা নেমে যায়। বাসন্তী ও ক্যানিং হাসপাতালেও বেশ কিছুক্ষণ জল জমেছিল। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীদের ভিড় ছিল কম।