নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধৃত পাকিস্তানি জঙ্গি রানা রউফকে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনা এবং তাঁর জন্য ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স । ধৃতের নাম ইমরান। তিনি তপসিয়া এলাকার বাসিন্দা। এসটিএফ সূত্রে অভিযোগ, রানা রউফকে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং ভারতীয় নথিপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় ইমরানের ভূমিকা ছিল।
অপরদিকে আল-কায়দা মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার এবং নোদাখালী থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের নাম শেখ সফিক এবং জানিদুল বেগ। সূত্রে খবর, এই শেখ সফিক জুটমিল শ্রমিক এবং জানিদুল একটি এনজিও এর আড়ালে এই সব জঙ্গি চরবৃত্তি চালাত। জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা একটি মডিউল তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। আরো অভিযোগ রাজ্যে স্লিপার সেল তৈরিতেও এদের ভূমিকা ছিল। এছাড়াও বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ এবং পাক হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত তারা।
এদিকে রানাকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কলকাতায় তাঁর যোগাযোগ এবং ভারতীয় নথি তৈরির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কারও সন্ধান পাওয়া যায় কি না, এখন সেটাই দেখছেন তদন্তকারীরা। অপরদিকে একই দিনে আল-কায়দা মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার এবং নোদাখালী থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চলতি মাসের ১১ তারিখ বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করার অভিযোগে হাবড়া থেকে এক সন্দেহভাজন আইএসআই এজেন্ট রানা রাউফকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত রানা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ‘ডিপ অ্যাসেট’ হিসেবে কাজ করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ফয়জলাবাদ-হাফিজাবাদের বাসিন্দা রউফ ২০১২ সালে নেপাল হয়ে বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকে। পরে কলকাতার তপসিয়ায় আশ্রয় নিয়ে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস শুরু করে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে সে ‘ওয়াহাব আলম’ নাম ব্যবহার করত বলে অভিযোগ। এমনকি জাল নথির সাহায্যে ভোটও দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এসটিএফের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রউফের। পাশাপাশি এর আগে রউফকে ভারতে থাকতে সাহায্য করা এবং জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহযোগিতার অভিযোগে তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজকেও গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। গত বুধবার রাসত আদালতে দু’জনকে পেশ করা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।