নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আকাশি ও কাঠি। এগুলি কাঁচা লঙ্কা। প্রথমটি ছোটো। চামড়া মোটা। আকাশমুখী। দ্বিতীয়টি সরু কাঠির মতো। আগা বাঁকানো। দু’টিতেই কোনো ঝাল নেই। নেই গন্ধ। কিন্তু, দামের ঝাঁজে চোখ জালা করছে গৃহকর্ত্রীর। উত্তরবঙ্গের বাজারে সেগুলির দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। শুধু লঙ্কা নয়, ঝিঙ্গা, পটল, পেঁপে, করলা, টম্যাটো সহ অন্যান্য সবজিরও দাম আকাশছোঁয়া। এনিয়ে আমজনতা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড়ো শহর শিলিগুড়ি। এখানে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে অসংখ্য বাজার রয়েছে। প্রতিটি জায়গাতেই সবজির বাজার আগুন। বিভিন্ন বাজারে কাঁচা লঙ্কা ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। এরবাইরে পটল ৭০-৮০, কাঁচা পেঁপে ৪০, করলা ৬০-৮০, ঢেঁড়স ৫০-৬০, পাহাড়ের মূলা ৭০, কোয়াশ ৪০, ফুলকপি ৮০-৯০, কাঁকরোল ৬০-৮০, ক্যাপসিকাম ১৫০, আলু ৮-২০, পেঁয়াজ ৪০ ও টম্যাটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার শহরের উড়ালপুলের নীচে সবজি কেনাকাটার ফাঁকে গৃহবধূ সোমা দাস বলেন, বাজারে দু’ধরনের লঙ্কা মিলছে। সেগুলির নাম আকাশি ও কাঠি। গন্ধ, ঝাল না থাকলেও সেগুলির দামে চোখ দিয়ে জল বের হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও অস্বাভাবিক। একই ধরনের অভিযোগ করেন গোপাল সাহা, দিলীপ রায় নামে ক্রেতারাও। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বাজারে হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা হয়তো কালোবাজারি করছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য, খামখেয়ালি বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় এবং বন্যায় প্রতিবেশী রাজ্য অসমে সবজির উৎপাদন মার খেয়েছে। যার প্রভাবে বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে। শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক বিকাশ রুহেলা অবশ্য বলেন, সবজির দাম নিয়ে এখনও কোনো অভিযোগ মেলেনি। তা হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
আলিপুরদুয়ার জেলাতেও লঙ্কার দাম একই। কিন্তু, কোচবিহারে লঙ্কার দাম ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। কোচবিহারের ভবানিগঞ্জ বাজারে কাঁচা লঙ্কার দাম ২০০ টাকা কিলো। আদা ও রসুন ৫০০, শসা ৫০ ও ঝিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি। আলিপুরদুয়ারে ঝিঙ্গা ৪৫, বেগুন ৬০, কাকরোল ৭০, ঢেঁড়স ৬০ ও পটল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শোলা কচু গোটা ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ী মনোজ বর্মন বলেন, মাঝে মাঝেই টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হচ্ছে। আবার, বৃষ্টি থমকে গিয়ে টানা রোদ হচ্ছে। এতে সবজির উৎপাদন কিছুটা মার খেয়েছে। তাই সামান্য বেড়েছে।