Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পায়রায় বিপদ! সংক্রামক সিটাকোসিসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল

বিরল সংক্রামক রোগ সিটাকোসিসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ।

পায়রায় বিপদ! সংক্রামক সিটাকোসিসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিরল সংক্রামক রোগ সিটাকোসিসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। পায়রা ও অন্যান্য পাখির বিষ্ঠা ও আক্রান্ত পাখিদের দেহ নিঃসৃত তরল থেকে এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এর উপসর্গ জ্বর, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, শুষ্ক কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অবসাদ। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের লেকচার থিয়েটার-৪ সহ অন্যান্য বেশকিছু অব্যবহৃত জায়গা পায়রার ডেরা হয়ে উঠেছে। এই লেকচার থিয়েটার হল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে এখন ঢোকা যায় না। ধুলোবালি নোংরার সঙ্গে পায়রার বিষ্ঠা ও পালক ছড়িয়ে রয়েছে সারা ঘরে। দুর্গন্ধে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না।

Advertisement

পায়রার বিষ্ঠায় এভাবে চারদিকে নোংরা হয়ে থাকায় সিটকোসিসের মতো বিরল সংক্রামক রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, এভাবে পরিত্যক্ত বিভিন্ন জায়গা পায়রা ও অন্যান্য পাখিদের আস্তানা হয়ে ওঠায় তাদের বিষ্ঠা ও পালকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় সুটাকোসিস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সিটাকোসিস প্যারট ফিভার নামেও পরিচিত। এই বিরল সংক্রামক পাখি থেকে মানুষ সংক্রামিত হয়। সময়মতো সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিপদ জেনেও অব্যবহৃত ঘরগুলি এভাবে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে কেন? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এক পড়ুয়া হিরন্ময় রায় বলেন, আমরা বহুবার এই বিষয়গুলি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। এভাবে ফাঁকা ঘর ফেলে রাখায় সেখানে পায়রা সহ অন্যান্য পাখি বাসা বাঁধছে। তারা চারপাশ নোংরা করছে। নিয়মিত সাফাই না হওয়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যান্য লেকচার থিয়েটার হলগুলিও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। 
পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ার পর থেকেই লেকচার থিয়েটার হলের ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই কারণে লেকচার থিয়েটার-৪ হল পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে।  হঠাৎ  কোনও অনুষ্ঠান হলে সাফাই করা হয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের সাফাই কর্মীর সংখ্যা খুবই কম। এত বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে পরিষ্কার রাখতে গেলে আরও অনেক বেশি সাফাই কর্মী দরকার। সাফাই কর্মী কম থাকায় নিয়মিত সব জায়গা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এভাবে লেকচার থিয়েটার-৪ হল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে পায়রাদের আস্তানা হয়ে ওঠা ও নোংরা করার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।  পরিত্যক্ত ৪ নম্বর থিয়েটার হল। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ