নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে হাসপাতাল’। বুধবার থেকেই এই পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সীমান্তবর্তী শহর বসিরহাটে গত কয়েকদিনে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে মানুষের ভিড় দেখা গিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে হাসপাতাল’। বুধবার থেকেই এই পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সীমান্তবর্তী শহর বসিরহাটে গত কয়েকদিনে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে মানুষের ভিড় দেখা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় তিনটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালু হয়েছে। একটি বারাকপুর, একটি বনগাঁয় ও একটি বসিরহাটে। কিন্তু এখনও সদর শহর বারাসতে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালু হয়নি। এর মাধ্যমে মূলত, মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে চাইছে সরকার। মাত্র চারদিনে এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন এইসব হাসপাতালে। বসিরহাটের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিদিন মানুষের নানা রকমের চিকিৎসার প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল দূরে হওয়ায় যেতে-আসতে অসুবিধা হয় অনেকের। আছে অর্থনৈতিক ও যাতায়াতের সমস্যা। সেই বাধা কাটাতেই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। ক’দিনের পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছেন রক্তপরীক্ষা ও ইসিজির জন্য। বিশেষ করে হৃদরোগ ও রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা মানুষজন পরিষেবা নিতে এসেছেন। প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে আছেন চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, আধুনিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে ইসিজি ব্যবস্থা থাকায় হৃদরোগীকে পরীক্ষার পর প্রয়োজনে নিকটবর্তী বড় হাসপাতালে রেফার করা সম্ভব হবে। ফলে, সময় যেমন বাঁচছে, তেমনই জটিলতাও কমছে। সীমান্ত শহর বসিরহাটে প্রতিদিনই সকাল থেকেই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। বসিরহাটের সংগ্রামপুরের বাসিন্দা নরেশ রায় বলেন, বয়সের কারণে হাঁটাচলা করা কষ্টকর। ইসিজি করাতে গেলে গাড়ির খরচ বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এখন ‘দুয়ারে হাসপাতাল’ আসায় খুব উপকার হল। সরকার আমাদের কথা ভাবছে। আখারপুরের গৃহবধূ দেবারতি চক্রবর্তী বলেন, সন্তানের রক্তপরীক্ষা করাতে গেলে আগে ভোগান্তি হতো। এখন দ্রুত পরিষেবা মিলছে। রিপোর্টও পেয়ে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। এটা সত্যিই অভিনব উদ্যোগ। এ প্রসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বিষ্ণু দাস বলেন, আপাতত জেলায় তিনটি মোবাইল হাসপাতাল চালু করা গিয়েছে। প্রতিটিতেই ভিড় হচ্ছে। বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্প আজ মডেল।