নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ-নির্বাচনে জোড়াফুলের প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছাল। এদিন দু’পক্ষ আইনজীবী নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে হাজির হয়েছিল। আজ, শুক্রবার সকাল ১১টায় ফের উভয়পক্ষকে হলদিয়া মহকুমা শাসক অফিসে ডাকা হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রতীকের উপর প্রার্থীপদ নির্ভর করছে। কারণ, দু’জনের একজন প্রতীক পেলে অপরজনের প্রার্থীপদ নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর, দু’জনের কেউই প্রতীক না পেলে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে খবর। উল্লেখ্য, স্বীকৃত যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের সময় মাত্র দু’জন প্রস্তাবক লাগে। কারণ, তাঁরা পার্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার স্বাক্ষরিত চিঠি ও প্রতীক হিসেবে যথাক্রমে ফর্ম-এ এবং ফর্ম-বি জমা করেন। কিন্তু, নির্দল প্রার্থীদের ১০জন প্রস্তাবক লাগে। সেক্ষেত্রে কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ এতেসামুল হক কারও মনোনয়নে ১০জন প্রস্তাবক ছিলেন না। সেক্ষেত্রে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নির্বাচন কমিশনের নিয়মের ফাঁসে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
বৃহস্পতিবার মনোনয়ন স্ক্রুটিনি ছিল। এদিন ১১টি মনোনয়ন গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। একটিমাত্র মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে দু’টি মনোনয়ন পড়েছিল। জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি বিদ্যুৎ করণের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাকি ১১টি মনোনয়নে সিলমোহর দিয়েছে কমিশন। ১৯তারিখ মনোনয়ন প্রত্যাহার করার শেষদিন। ওইদিনই প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক পান। স্বীকৃত দলের নির্দিষ্ট প্রতীক থাকে। কিন্তু, নির্দল প্রার্থীদের জন্য প্রতীক দেয় কমিশন।
১৯সেপ্টেম্বরই তৃণমূল কংগ্রেসের যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে কে কোন প্রতীক পাবে তানিয়ে এসপার ওসপার হয়ে যাবে। কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল দু’পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক দাবি করেছে ফর্ম-বি জমা করেছে। এখন সেই ফর্ম অথরাইজ করার এক্তিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, কার হাতে থাকবে সেটাই ফয়সালা করতে হবে। আগামিকাল শনিবারের মধ্যেই এর সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে।
নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে মোট ১১জন প্রার্থীর মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে। বিজেপির হাসিরানি রথ, সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি, কংগ্রেসের মিলন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রার্থী আছেন। জাতীয় উন্নয়ন পার্টির শেখ হাসিবুল, আইএসএফের প্রার্থী সবে মিরাজ খান, ভারতীয় ন্যায় অধিকার রক্ষা পার্টির শুক্লা দাস লড়াই করছেন। এর বাইরে দুই নির্দল প্রার্থী আব্দুল রফিক শাহ এবং সৈয়দ মহম্মদ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। নিজস্ব চিত্র