Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নওদায় আত্মগোপন করতে চেয়েছিল ধৃত জঙ্গি শাদ রবি

নওদায় আত্মগোপন করতে চেয়েছিল ধৃত জঙ্গি শাদ রবি
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: বাংলাদেশ থেকে মুর্শিদাবাদে এসে নওদার পিঁপড়েখালি এলাকায় একটি বোরখার দোকান খুলেছিল ধৃত জঙ্গি শাদ রবি। এলাকায় সে সাব শেখ নামে পরিচিত ছিল। বোরখার ব্যবসার আড়ালে নিজের ছদ্মবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল সে। তবে, সেই ব্যবসা ভালোভাবে জমিনি। পাড়ি দেয় কেরলে। শাদ আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানির অত্যন্ত আস্থাভাজন। জেএমবি জঙ্গিদের আত্মগোপনের মডেলেই বোরখার ব্যবসা শুরু করেছিল বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা। এই ব্যবসার আড়ালে মহিলাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি হবে বলে সে আশা করেছিল। তারপর তাদের মগজধোলাই করে নিজেদের দলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। 
Advertisement
নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) শীর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ রয়েছে শাদের। এই দুই জঙ্গি সংগঠনের বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে পর্যাপ্ত টাকা না আসায় শাদের টাকার দরকার হয়। তখনই সে বোরখার দোকান ছেড়ে রাজমিস্ত্রির ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। কিন্তু সেটা করেও ভালো উপার্জন হতো না। মোটা টাকা আয়ের আশায় কেরলে পাড়ি দিয়েছিল। ভিনরাজ্যে যাওয়ার আগেই নওদা থেকে প্রথমে ভোটার তালিকায় নাম তুলে নেয় সে। তারপর সেই ভোটার কার্ড হরিহরপাড়ায় স্থানান্তরিত করে। একে একে আধার কার্ড ও পাসপোর্টও তৈরি করে ফেলে। সে হয়ে ওঠে এই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক।  
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে নওদা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার আত্মীয়ের বাড়িতেই থাকতে শুরু করে শাদ। সেই সূত্রে স্থানীয় বহু মানুষের সঙ্গে খুব কম সময়ে তার সখ্যভাব গড়ে ওঠে। তাদের সাহায্যেই বোরখার দোকান খুলেছিল সে। কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী হরিহরপাড়ার আব্বাস আলির সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আব্বাসকে দিয়ে খারজি মাদ্রাসা খোলে। সেখানে আত্মঘাতী জঙ্গি বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা করে শাদ। কেরল থেকে ফিরে মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিত সে। 
বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পরেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ-র চোখ পড়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বড়ুয়ামোড়ের ছোট্ট একটা দোকানের উপর। সেই দোকান ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল জেএমবি জঙ্গি শাকিল আহমেদ। এই দোকান থেকেই বোরখা বিক্রি করত সে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আর পাঁচটা গ্রাম্য মানুষের মতো আটপৌরে সংসার পেতেছিল শাকিল। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে শাকিল ব্যবসা ফেঁদেছিল বেলডাঙায়। দিন কয়েকের মধ্যেই সেখানে এসেছিল বাংলাদেশের কুখ্যাত সব জঙ্গি। ওই বোরখার দোকানের আড়ালে বাংলায় নাশকতার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছিল তদন্তকারীরা। খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের সময় শাকিল মারা গেলেও, তার এই বোরখার দোকানে এসে তদন্তকারী আধিকারিকরা একাধিক নমুনা সংগ্রহ করে। এবারও সেই একই কায়দা নিয়েছিল শাদ।
সম্পর্কিত সংবাদ