


অসলো ও ওয়াশিংটন: ভাবগতিক দেখে মনে হবে তিনি বুঝি ‘আধুনিক সময়ের বুদ্ধ’! নিজেই নিজেকে ‘যোগ্যতম দাবিদার’ বলে প্রচার করেছেন। মিডিয়া ডেকে দু’দিন অন্তর দাবি করে চলেছেন, আট-আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। যদিও দশচক্রে ভগবান ভূত। ‘সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের! ডোনাল্ড ট্রাম্প নন। শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কারে নাম ঘোষণা হল ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থী প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। অজ্ঞাতবাসে থাকা ৫৮ বছরের মারিয়া তাঁর দেশে ‘লৌহমানবী’ বলে পরিচিত। নরওয়ের নোবেল কমিটি বলেছে, ভেনিজুয়েলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও একনায়কতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের নেপথ্যে মারিয়ার নিরলস প্রচেষ্টা ও কঠোর সংগ্রামকেই কুর্নিশ জানানো হল।
বুলেট নয়, ব্যালট চাই। এই ছিল মারিয়ার স্লোগান। দু’দশক ধরে এই লক্ষ্যেই লড়াই করে গিয়েছেন তিনি। ভেনিজুয়েলার মানুষকে বলেছেন, প্রতিবাদ করুন। রুখে দাঁড়ান একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। শাসকের রোষ বারবার আছড়ে পড়েছে তাঁর উপর। তাও হার মানেননি। তারই স্বীকৃতি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারে। তবে ঘোষণার আগেই আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি আরও একবার করে রেখেছিলেন ট্রাম্প। তোপ দেগেছিলেন বারাক ওবামাকেও। ট্রাম্পের কটাক্ষ ছিল, উনি তো বিনা কারণে পুরস্কার জিতেছেন। অথচ আমেরিকার সর্বনাশ করেছেন! তাহলে কি মারিয়ার নাম ঘোষণায় ট্রাম্প হতাশ? মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন, হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়েছে। বলেছে, শান্তি নয়, রাজনীতি অগ্রাধিকার পেয়েছে।
ট্রাম্প কেন নয়? নোবেল কমিটির চেয়ারপার্সন জর্জেন ফ্রাইডনেস বলেন, ‘অ্যালফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে শুধু কাজের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিই। এবছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম নিয়ে ভাবনার অবকাশই ছিল না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার (প্রেসিডেন্ট পদে) পরই ৩১ জানুয়ারি চলতি বছরে মনোনয়ন গ্রহণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’ অর্থাৎ এবছরের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের দাবির প্রভাবই পড়েনি। সুতরাং, বেটার লাক নেক্সট ইয়ার মিস্টার প্রেসিডেন্ট!