সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝেই দুর্গাপুরের ডিসিআরসি কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এল। প্রথম দফার নির্বাচনের ঠিক আগের দিন বুধবার তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করেই শতাধিক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) কমিশনের নির্দেশে এদিন সকালে কেন্দ্রে হাজির হলেও সেখানে পৌঁছে কার্যত চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট কাজের বরাদ্দ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় সরকারি কর্মীদের। না ছিল সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, না মাথার উপর ছাউনি, পানীয় জলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ চরমে পৌঁছালে মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএলওরা।
ক্ষুব্ধ এক কর্মী জয়ন্তী টুডু বলেন, আমাদের ডাকা হয়েছে, অথচ এখানে এসে জানতে পারছি কোনো কাজই নেই! এই প্রচণ্ড গরমে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা নিছক হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়। অন্য এক বিএলও মহম্মদ আরিয়েল আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, ছ’মাস কাজের পরেও পারিশ্রমিক পাইনি। তার উপর আবার এভাবে ডেকে এনে অকারণে দাঁড় করিয়ে রাখার কোনো মানে নেই ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তরফে পরে মাইকিং করে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ভুলবশত তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এদিনের জন্য তাঁদের ফিরে যেতে বলা হয় ও নির্বাচনের দিন সরাসরি নিজের নিজের ভোটকেন্দ্রে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে এই ধরনের গাফিলতি উদ্বেগজনক। কমিশনের উচিত ছিল সব ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে করা। যাতে কেউ এভাবে হয়রানির শিকার না হন। অন্যদিকে, সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের পালটা দাবি, যেখানে তৃণমূল শাসিত এলাকায় সাধারণ মানুষই ন্যূনতম পরিষেবা পায় না, সেখানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কমিশন রয়েছে বলেই অন্তত সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে, তবে তা ইচ্ছাকৃত নয়। তৃণমূল অকারণে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। দুর্গাপুরে বিএলওদের বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র