


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের এখনও কোনও সুস্পষ্ট দিশা বা পরিকল্পনা নেই। তারা কী কী করবে, তা নিয়েই ঢাক পিটিয়ে যাচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রকের মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘দেশে ১১০০টি জায়গায় রেললাইনের ধার দিয়ে হাতি পারাপারের হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে। যেসব জায়গা হাতির করিডর, সেই এলাকা দিয়ে যাওয়া ট্রেনের লোকো পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’ তাঁর কথা থেকেই স্পষ্ট, এই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানসূত্র হাতড়ে চলেছে কেন্দ্র।
এদিন ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি এবং প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ছিল সুন্দরবনে। সেখানে দেশের সব রাজ্যের বন আধিকারিক ও মন্ত্রকের শীর্ষকর্তারা হাজির ছিলেন। বৈঠকে বাঘ ও হাতি সংক্রান্ত নানা ইস্যু আলোচিত হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে ঝাড়গ্রাম—প্রায়শই ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। শনিবার অসমে এমনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে সাতটি হাতির। কেন বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, তার অবশ্য কোনও সদুত্তর মেলেনি। উলটে এখনও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর্বই চলতে আছে! এলিফ্যান্ট স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠকে মন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, তারা হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে বদ্ধপরিকর। মন্ত্রীর কথায়, ‘হাতির গতিপথ, কখন কোথা দিয়ে বেরোচ্ছে, এসব তথ্য সব পক্ষকে জানাতে হবে। প্রতি রাজ্যে জেলায় জেলায় ডিএফও একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করবেন। সেখানে হাতিদের তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও অবহিত করতে হবে। যত বেশি তথ্য আদান প্রদান হবে, তত বেশি হাতি সংরক্ষণের কাজ সুষ্ঠুভাবে করা যাবে। কমবে মানুষ-হাতির সংঘাতও। এছাড়া, তিন ভাগে হাতির করিডরগুলি ভাগ করে চলবে নজরদারি। কোন এলাকায় হাতিদের গতিপথ এবং চরিত্র কেমন, সেসব আগামী দিনে পর্যালোচনা করা হবে। অর্থাৎ, যাবতীয় বিষয়টি এখনও রয়েছে পরিকল্পনার স্তরে। এতে কাজের কাজ কতটা হয় বা আদৌ হয় কি না, সেটাই এখন দেখার!