সংবাদদাতা, বজবজ: পঞ্চায়ত সমিতির সভাপতি ও সহসভাপতি কারা হবেন? এই প্রশ্নে তৃণমূলের ভিতরে দোলাচল অব্যাহত। এই ব্যাপারে মঙ্গলবার বজবজ-১ বিডিও বা পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে ভোটাভুটি ছিল। বাইরে ছিল কৌতূহলী মানুষের বেজায় ভিড়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতারাও। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের ১৫ জন সদস্য/সদস্যার কেউই আসেননি। ফলে পরবর্তী ভোটাভুটির দিনক্ষণ নিয়ে ধন্দ রয়েই গেল। বিষয়টি স্বীকার করেন বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ সুজিত বুঁইতা। তিনি বলেন, ‘ফের প্রশাসনকে চিঠি দেব।’ এদিনের এই পরিস্থিতির জন্য তিনি পরোক্ষভাবে বিজেপিকেই দায়ী করেছেন।
তাঁর কথায়, ‘বজবজ-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কানাইলাল দাস এবং সহসভাপতি নিত্যানন্দ বর্মন আগেই পদত্যাগ করেছেন। স্বভাবতই থমকে গিয়েছে সমিতির কাজকর্ম। ওই দুটি পদের জন্য চর্চায় উঠে এসেছে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুদীপ হাজরা, খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ রিঙ্কু ঘোষ এবং শুভাশিস কয়ালের নাম। কিন্তু প্রেশার পলিটিক্স শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, এঁদের কোনোভাবেই নেওয়া যাবে না। শেষমেশ রিঙ্কু শি নামে একজনকে সভাপতি হিসাবে ঠিক করা হয়। কিন্তু বিজেপির লোকজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ভয় দেখায়। ফলে তিনিও হতে চাননি। তাই ফের কানাইলাল দাসকেই সভাপতি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিডিও অফিসের বাইরে বিজেপির হল্লা দেখে, ভয় পেয়ে যান আমাদের লোকজন। তাঁরা কেউই শেষমেশ আসেননি। বাকি সদস্যদেরও অনেকে ভয়ের কথা বলেছেন। করম পুজো উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকারি ছুটিও ছিল মঙ্গলবার। তাই এদিনের ভোটাভুটির বৈধতা নিয়েও কারও কারও সংশয় ছিল।’
অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তাদের দল কোনো চাপ দেয়নি। ভয় দেখাতেও যাননি কেউ। তারা শুধু বলেছিল, কানাইলাল দাসকে সভাপতি মানবে না। অথচ সেটাই ছিল নাকি তৃণমূলের পরিকল্পনা। একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিকেই ওই গুরুত্বপূর্ণ চেয়েছে রাজ্যের শাসক দল।