নয়াদিল্লি: ‘নো ইউপিআই, অনলি ক্যাশ’। উৎসবের মরশুমে দোকানের সামনে এমনই বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দোকানদারা। এমনই চিত্র দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদেও। মধ্যপ্রদেশের বহু পেট্রল পাম্পও ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইতে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করবে। এর বেশি হলে নগদ দিতে হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২০০০ টাকার বেশি ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪০ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চার্জ লাগু করেছে কেন্দ্র। এই মাশুল শুধু বিক্রেতাদের উপর ধার্য হলেও তার প্রভাব ক্রেতাদের উপর পড়বে বলে আশঙ্কা। আর এই আবহেই বহু বিক্রেতাই বলছেন, হয় নগদ দিতে হবে, নাহলে বাড়তি অর্থ দিতে হবে ক্রেতাকেই।
গাজিয়াবাদের বৈষ্ণবী জুয়েলার্সের মালিক অক্ষয় কুমার গুপ্তা বলেন, ‘আমার দোকানে কোনো কিছুই ২ হাজার টাকার নীচে কিনতে পারবেন না। ক্রেতারা নগদ দিতে পারেন। ইউপিআই করলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। এমনিতেই গত কয়েকবছরে আমাদের ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। আমরা কেন এই অতিরিক্ত খরচের ভার বহন করব?’ শাহনাজ নামে এক পার্লারের মালকিন বলেন, ‘ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। ফেসিয়াল ২ হাজার টাকা থেকে শুরু। নগদে বিল মেটাতে হলে অনেক ক্রেতাই দু’বার ভাববে।’ সঞ্জয় বিন্দাল নামে এক মুদি দোকানি বলেছেন, ‘ক্রেতাদের নগদ টাকা দিতে বললে অনেকেই অন্য দোকানে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে ব্যবসার আরও ক্ষতি হবে।’
শুধু গাজিয়াবাদ নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই রকম বিজ্ঞপ্তি জারি রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের একাধিক পেট্রোল পাম্প ইতিমধ্যেই ইউপিআই লেনদেনে আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোটো ব্যবসায়ীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি নয়। দিল্লির চাঁদনি চকের সোনার দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘আগে নগদে লেনদেন হতো। বহুদিনের চেষ্টার পর তা ইউপিআইয়ে বদলেছে। এই নতুন চার্জ বসলে উৎসবের মরশুমে ব্যবসার ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ইউপিআই লেনদেনে অতিরিক্ত টাকা না নিলেও ঘুরপথে দাম বাড়বেই।’ উৎসবের মরশুমে এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবেই।