Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধার নম্বর ছাড়া সার বিক্রি না, নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র, দিল্লিতে বিস্ফোরণের জের

বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে এনপিকে। নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মিশ্রণে শক্তিশালী বিস্ফোরণ তৈরি করছে জঙ্গিরা।

আধার নম্বর ছাড়া সার বিক্রি  না, নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র, দিল্লিতে বিস্ফোরণের জের
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে এনপিকে। নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মিশ্রণে শক্তিশালী বিস্ফোরণ তৈরি করছে জঙ্গিরা। দিল্লির বিস্ফোরণ কাণ্ডে তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা এমন তথ্য হাতে পেয়েছেন। ফরিদাবাদের তিনজন ডিলারের কাছ থেকে জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ এনপিকে কিনেছিল। তা যাতে ভবিষ্যতে সহজে জঙ্গিদের হাতে না যায়, তারজন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এধরনের সার কেনার ক্ষেত্রে দোকান বা রেশন ডিলারের কাছে আধার নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কড়া কেন্দ্র।   আঙুলের ছাপও দিতে হবে। এক আধিকারিক বলেন, আধার নম্বর দিয়ে সার কেনার নির্দেশ আগেই ছিল। কিন্তু এতদিন তা সেইভাবে কার্যকর করা হয়নি। এবার থেকে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, সারের কালোবাজারি বন্ধের জন্য আগে এমন নির্দেশ ছিল। কেউ যাতে বিপুল পরিমাণে সার কিনে কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে, বিস্ফোরক তৈরিতেও এনপিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই কারণে ওই নির্দেশ এবার থেকে আরও কড়াকাড়িভাবে পালন করা হবে।  এক আধিকারিক বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলাররাই সার বিক্রি করতে পারবেন। কোনও দোকানে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁরা সার কিনবেন, তাঁদের আধার কার্ডের নম্বর ডিলারদের লিপিবদ্ধ করতে হবে। এছাড়া, বায়োমেট্রিক নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চাষিরা কতটা সার কিনছেন, তার রসিদ ডিলারদের দিতে হবে। কেউ সন্দেহজনকভাবে অনেক বেশি এনপিকে কিনলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে যাতে নাইট্রোজেন, পটাশ ব্যবহার করতে না পারে, তা দেখতে বলা হয়েছে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন জেলায় কতজন ডিলার রয়েছে, সেই তথ্য দপ্তরে আছে। এছাড়া, জেলায় কোন সার কত পরিমাণে রয়েছে, সেই হিসেবও লিপিবদ্ধ থাকে। এতদিন চাষের মরশুমে সারের কালোবাজারি বন্ধ করা আধিকারিকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন অন্য কারণে তাঁদের মাথাব্যথা বেড়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ফরিদাবাদে চাষি সেজে জঙ্গিরা বিভিন্ন দোকান থেকে এনপিকে সংগ্রহ করে। তার সঙ্গে অন্যান্য রাসায়নিক মিশিয়ে তারা বিস্ফোরক তৈরি করেছিল। কেউ যাতে সন্দেহ না করে, তার জন্য তারা ধাপে ধাপে এনপিকে সংগ্রহ করেছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ