Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে ‘না’! বাংলার বন্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সরব তৃণমূল

বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার আরও একটি উদাহারণ সামনে এল। উত্তরবাসীর স্বার্থে ইন্দো-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠিত হোক, তা কোনওভাবেই চায় না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে ‘না’! বাংলার বন্যা  নিয়ে কেন্দ্রীয় নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সরব তৃণমূল
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও শিলিগুড়ি এবং সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার আরও একটি উদাহারণ সামনে এল। উত্তরবাসীর স্বার্থে ইন্দো-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠিত হোক, তা কোনওভাবেই চায় না কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সরাসরি তা সংসদে জানিয়েও দেওয়া হল। এমনটাই দাবি করেছে তৃণমূল। সংসদে কেন্দ্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সি আর পাতিল জানিয়ে দেন, ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠন নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই।

Advertisement

আর এই তথ্য সামনে আসার পর কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চড়া সুরে তোপ দাগেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যৌথ কমিশন গঠন সংক্রান্ত পরিকল্পনা না করে দিয়ে ঔদ্ধত্যের প্রকাশ ধরা পড়েছে কেন্দ্রের বক্তব্যে। আসলে বিজেপি চাইছে উত্তরবঙ্গসহ বাংলা ডুবে যাক। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলছি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে ২০২৬ সালে বিজেপিকে বাংলার মানুষ নির্বাচনের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে। বিজেপির সলিল সমাধি নিশ্চিত।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যালোচনার জন্য গঠন করা হোক ইন্দো-ভুটান যৌথ নদী কমিশন। ভুটান থেকে উৎপত্তি হওয়া একাধিক নদীর জলে ভেসে গিয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির বিস্তৃর্ণ অঞ্চল। চা বাগান সহ বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে বাসস্থান, কৃষিজমি। এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানভায় একটি প্রস্তাব আনে সরকার পক্ষ। ওই প্রস্তাবে ইন্দো-ভুটান যৌথ নদী কমিশনের গঠনের কথা উল্লেখ ছিল। বিধানসভায় ওই প্রস্তাব পাস হওয়ার পর তা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে তা নাকচ করে দেওয়ার ক্ষুব্ধ বিধানসভার অক্ষ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের কাছে আমার আর্জি, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
এদিকে, ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে কোচবিহার ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন নদী। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ারে সংকোশ, তুফানগঞ্জে রায়ডাক-১ নদীর জলস্তর বাড়ছে। এরবাইরে তোর্সা, কালজানি, মানসাই প্রভৃতি নদীর জলস্তর ঘনঘন ওঠা নামা করছে। ভুটানের ডলোমাইটে নদীবক্ষ ভরাট হয়ে নাব্যতা কমছে। এজন্য ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠনের দাবি বহুদিনের। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন বলেন, কেন্দ্রের সরকার যৌথ নদী কমিশন গঠনের প্রস্তাবও নাকচ করেছে, যা দুর্ভাগ্যের। বিজেপি যে উন্নয়ন চায় না, তা এই ঘটনা থেকে আরও একবার প্রমাণ হল। পাল্টা বিজেপি নেতা তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন, এখন এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ওরা নদীগুলির বাঁধ দিক রাজ্য। তা কিন্তু ওরা করছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ