নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার কি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও উঠে যেতে বসেছে সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা কোর্স? অন্তত এবছর ছাত্রছাত্রীদের কোর্সটি নিয়ে আগ্রহ দেখে তা বলাই যায়। ৩ ডিসেম্বর এই পিজি ডিপ্লোমা ইন মাস কমিউনিকেশনের আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। আবেদনকারী ছিলেন মাত্র ৬০ জন। তার একটি সামান্য অংশই ভর্তি হবেন, এই আশঙ্কায় এবছর আর কোর্সটি না চালানোর সিদ্ধান্তই নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে ১৯৮৯ সাল থেকে চালু থাকা এই কোর্সটিতে একটি ছেদ পড়তে চলেছে। তা পূর্ণচ্ছেদ কি না, তা অবশ্য সময়ই বলবে। প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকবছর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ক দু’টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ, ল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইএসএলএম) ফ্যাকাল্টির অধীন অ্যাডাল্ট অ্যান্ড কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের স্কুল অব মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড কালচার এই কোর্সটি চালায়। আইএসএলএমের ডিন পার্থসারথি চক্রবর্তী বলেন, ‘আশাব্যাঞ্জক আবেদন জমা না পড়ায় এবছর আমরা কোর্সটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ যদিও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত অবশ্য জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তিনি একথা বললেও ফ্যাকাল্টি হিসেবে সিদ্ধান্ত যে হয়েই গিয়েছে, তা স্পষ্ট ডিনের কথাতেই।
জানা যাচ্ছে, সোনালি সময়ে ১৪০-১৫০ জন ছাত্রছাত্রী এই কোর্সে ভর্তি হতেন। তবে, ধীরে ধীরে আগ্রহ কমতে থাকে। তাও বিগত বেশ কয়েকবছর ধরেই ৭০-৮০ জন ছাত্রছাত্রী থাকতেনই। গতবছর অবশ্য সেই সংখ্যা ছিল ৫০-৫৫ জন। আর এবার আবেদনই পড়েছে মাত্র ৬০টি। ফলে ঝাড়াই-বাছাই করে পড়ুয়া ভরতির সুযোগই নেই। তাছাড়া, আবেদন যত জমা পড়ে তার অনেক কম পড়ুয়াই শেষপর্যন্ত ভর্তি হন। ফলে পড়ুয়াদের অর্থে চলা (সেলফ ফিনান্সড) কোর্সটি আর চালানোর কথা ভাবছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এই কোর্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সুবীর ঘোষ বলেন, ‘সাংবাদিকতা পুঁথিগত বিষয় নয়। এটির ব্যবহারিক দিকটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত ৫০ শতাংশ প্র্যাকটিক্যাল রাখা উচিত। বিভিন্ন নয়া প্রযুক্তিও শিখতে হবে পড়ুয়াদের। যাঁরা পড়াবেন, তাঁদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি পেশাদার সাংবাদিক থাকলে ভালো। পড়ুয়ারা হয়তো এখন সেসব পাচ্ছেন না বলেই মুখ ফিরিয়েছেন।’ যদিও, আরও একটি দিক ঘুরেফিরে আসছে। বিগত কয়েকবছরে সাংবাদিকতা বিভাগ নানা বিতর্কে সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে। খাতা না দেখেই ইচ্ছেমতো নম্বর দিয়েছেন দু’জন অধ্যাপক। তারপর উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়েছে। ফাইনাল মার্কশিট পেতে নাকাল হয়েছেন পড়ুয়ারা। সিনিয়রদের থেকে এসব জেনেই কি আর ভরসা পাচ্ছেন না নতুন পড়ুয়ারা? সেই প্রশ্নও উঠছে। আর সেটা অন্যতম কারণ হলে ২০১৭ সাল থেকে চালু হওয়া মাস কমিউনিকেশনের এমএ কোর্সটিও ভবিষ্যৎও অন্ধকার বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।