সংবাদদাতা, মানবাজার: পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক শহর হওয়া সত্ত্বেও নেই পর্যাপ্ত শৌচালয় ও পথবাতি। যার ফলে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শহরের বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত পথবাতির অভাবে শহরের বেশিরভাগ জায়গায় অন্ধকারে ডুবে থাকে।সেই সঙ্গে জনবহুল এলাকাগুলিতে গণ শৌচালয় না থাকা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।একটি কমিউনিটি টয়লেট তৈরি হলেও তা দু’ বছর ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে।
পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পাড়ায় সমাধান প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে সাধারণ মানুষেই ঠিক করছেন তাদের এলাকায় কী প্রয়োজন। পুঞ্চার বাসিন্দারাও যে দাবি জানিয়েছিলেন, সেই মতোই পথবাতি থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই হচ্ছে। বন্ধ শৌচালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলের সমস্যার কারণে শৌচালয়টি চালু করা যায়নি। শীঘ্রই সেটি চালু হয়ে যাবে।
আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ পুঞ্চা শহরে আসেন বিভিন্ন কাজে। অথচ শহরের একাধিক জায়গায় শৌচালয় নেই। যার ফলে অসুবিধায় পড়তে হয় মানুষকে। বিশেষ করে সমস্যায় পড়তে হয় মহিলাদের। স্থানীয়দের কথায়, অনেকেই বাসের জন্য অপেক্ষা করেন থানা মোড় বা ডাঙ্গার হরি মন্দিরের কাছে। ওই জায়গাগুলোতে শৌচালয়ের অভাব রয়েছে। ডাঙ্গায় অপেক্ষারত যাত্রী চিরঞ্জিত বাউরি, নিরঞ্জন সিং বলেন, চারদিকে দোকান, ফাঁকা জায়গা নেই। শৌচালয় থাকলে ভালো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুঞ্চা শহরে একটি কমিউনিটি শৌচালয় তৈরি করা হয় বছর দুই আগে। কিন্তু সেটি এখনও চালু হয়নি। ওই শৌচালয়ের সামনে আবর্জনা ফেলে অনেকেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে যারা গিয়েছে জলের ব্যবস্থা না থাকায় ওই শৌচালয় চালু করা যায়নি। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ওই শৌচালয়টি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ব্লক শহরে পথবাতি নিয়েও সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দু’-এক জায়গায় হাইমাস্ট লাইট থাকলেও ব্লক শহরের একাধিক জায়গায় পথবাতির ব্যবস্থা নেই। যার ফলে সন্ধ্যা নামলে অন্ধকারে ডুবে থাকে ওই সমস্ত এলাকা বা পথঘাট। ওই জায়গাগুলিতে দোকানপাটের আলোতে রাস্তাঘাট আলোকিত হয়ে থাকে। দোকান বন্ধ হলেই অন্ধকারে ঘুটঘুটে হয়ে যায়।
পুঞ্চার বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা জনপ্রিয় ঘোষ বলেন, থানা মোড় এবং ডাঙ্গার হরিমেলার কাছে অনেকেই বাসের জন্য অপেক্ষা করেন।শৌচালয়ের অভাবে মহিলারা অসুবিধায় পড়েন। একটা শৌচালয় নির্মাণ হলেও দু’ বছর ধরে বন্ধ। অন্যদিকে শহরে বিভিন্ন জায়গায় পথবাতিও নেই বলে দাবি করেন তিনি। আমাদের এমপি তহবিল থেকে হাসপাতালে বছর খানেক আগে একটা হাই মাস্ট লাইট বসানো হয়েছে। যাতে হাসপাতাল চত্বর আলোকিত থাকে।