Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পৃথক বরাদ্দই নেই, ক্রমে গুরুত্ব হারাচ্ছে মোদির ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প

পৃথক বরাদ্দই নেই, ক্রমে গুরুত্ব হারাচ্ছে মোদির ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও একটি প্রকল্পকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে স্লোগান থেকে প্রচার সবই করেন উচ্চকিতভাবে। তারপর এক সময় সেইসব এর জায়গায় স্থান করে নেয় আবার নতুন কোনও প্রকল্পের নাম ও স্লোগান। ক্রমেই পিছনে  চলে যায় পুরনো প্রকল্পের অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব। স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প থেকে স্মার্ট সিটি। নমামি গঙ্গে অথবা মেক ইন ইন্ডিয়া। এই সবই ছিল এক সময় সবথেকে উজ্জ্বল সরকারি প্রকল্প। কিন্তু এখন আর এইসব প্রকল্প নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য অথবা উচ্ছ্বাস  প্রকাশ করতে দেখা যায় না মোদি সরকারকে। এই তালিকায় নবতম নাম বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও। সংসদে সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ হ্রাস কেন হল? কংগ্রেসের এমপি রেণুকা চৌধুরী প্রশ্ন করেছেন, ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু  তা ২০২৩ আর্থিক বছরে ৯০ কোটি টাকা হয়ে গেল কেন? প্রশ্নের উত্তরে সরকার যে তালিকা দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে সত্যিই বছরের পর বছর ধরে  মোদির হাই ভোল্টেজ প্রচারের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পের বরাদ্দ কমেছে।  বস্তুত এখন আর তা  পৃথকভাবে কোনও প্রকল্পই নয়! পৃথক অর্থ বরাদ্দও নেই। বরং ‘সম্বল’ নামে একটি সমন্বিত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২৮০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ২০০ কোটি টাকা। ২০২০ এবং ২০২১ সালে ১০০ কোটি টাকা করে। আর ২০২৪ সালের বাজেটে কমে হয় ৬৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের বাজেট বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি। কারণ ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ ঢুকে পড়েছে একঝাঁক অন্য নারী উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেই একটি সমন্বিত প্রকল্পের অধীনে। এখন থেকে ওই প্রকল্পেই বরাদ্দ হচ্ছে। সেখান থেকেই ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প টাকা পাবে প্রয়োজন অনুযায়ী। সরকার বলেছে, এই প্রকল্প মিশন শক্তি নামক একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যকে ১০০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সহায়তা দেওয়া হয় এই খাতে। বিরোধীদের বক্তব্য, নারীশিক্ষা ভিত্তিক যে প্রকল্প হবে বলে সরকার এক সময় ঘোষণা করেছিল, সেই প্রকল্পকে পৃথক একটি অস্তিত্ব হিসেবে রেখে দেওয়া হলে অনেক বেশি গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হত। তা না করে ওই প্রকল্পের গুরুত্ব কমানো হচ্ছে। শেষবার ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা থেকেই স্পষ্ট যে সরকারের আদৌ সদিচ্ছা কতটা।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ