নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পানীয় জলের সংযোগ নেই। রাস্তাঘাট নেই। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যেতে ভরসা বাঁশের সাঁকো কিংবা ভেলা। এমনকি প্রসূতিদের আপৎকালীন চিকিৎসার জন্য পর্যন্ত যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কোনও গ্রাম নয়। শুনলে অবাক লাগলেও সত্যি যে, এ ছবি হাওড়া শহরের। সেখানে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কোনা আমবাগান এলাকাটি আক্ষরিক অর্থেই একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো অবহেলায় পড়ে থাকে। তবে এবার প্রথমবার পাকা রাস্তা তৈরি হল একটি। দ্রুত অন্যান্য নাগরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি হাওড়া পুরসভার আধিকারিকদের।
কোনা আমবাগানের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফাঁকা জমি। বেশিরভাগ জায়গাই নিচু জলা অঞ্চল। বাম আমল থেকে পুরসভার এই সংযুক্ত এলাকায় অন্য জায়গা থেকে এসে বসতি গড়া শুরু হয়েছে। দেখতে দেখতে কয়েকশো বাড়ি গড়ে উঠেছে। কয়েক হাজার বাসিন্দার বসবাস। পাকা রাস্তা তো দূর, ওই এলাকায় কোনওকালে কাঁচা রাস্তা পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। বেশিরভাগ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় চরম সমস্যা বাসিন্দাদের। তাঁরা অন্যের বাড়ি যেতে ভেলা ব্যবহার করেন। কোনও জায়গায় এক বাড়ি থেকে মাঠের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন অনেকে। এরকম হাজার ভোগান্তিকে সঙ্গী করে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করছেন তাঁরা। কোনা আমবাগানের একদিকে হাওড়া। অন্যদিকে শ্রীরামপুর লোকসভা এলাকা। পুর এলাকা হলেও দুই লোকসভা কেন্দ্রের সীমানায় অবস্থিত হওয়ার কারণে জটিলতা রয়েছে কোনাকে ঘিরে। ফলে নাগরিক পরিষেবা থেকে কার্যত বঞ্চিত এই এলাকা।
যদিও পাঁচ কিলোমিটারের মতো পাকা রাস্তা সম্প্রতি তৈরি করেছে হাওড়া পুরসভা। আরও রাস্তা হবে। এখন এলাকায় প্রথমবার পাকা রাস্তার দেখা পেয়ে আনন্দিত বাসিন্দারা। এলাকাটি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। কোনার বাসিন্দারা বলেন, ‘কেউ এতটুকুও নাগরিক সুবিধা প্রদানের কথা ভাবেনি। পাকা রাস্তা হওয়ায় এবার অন্তত পাড়ার ভিতর অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে পারবে। আমরা খুশি।’ মুখ্য প্রশাসকের কাছে পানীয় জল নিয়ে ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেছিলেন বাসিন্দারা। প্রশাসক বলেন, ‘ভাবাই যায় না! পুর এলাকায় থেকেও এঁরা ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা পাননি। পানীয় জল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এখানে নতুন পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য আড়াই কাঠা জমি চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি আম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ দিতে কেএমডিএ’র সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিজস্ব চিত্র