নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে পুতুল খেলার সময় কি তবে শেষ হয়ে এল? কারণ, ১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর শুরু হওয়া নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়াম বন্ধ হওয়ার মুখে। এমনটাই বলছেন মিউজিয়ামের অধিকর্তা সুদীপ শ্রীমল। গত ১৯ জুলাই থেকে ছবি আঁকা সহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
কী এমন হল? দিনকয়েক আগে এক অবাঙালি ব্যক্তি মিউজিয়াম ঘুরে সুদীপবাবুর কাছে গোটা বিল্ডিংয়ের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তত্ক্ষণাত্ সুদীপবাবু এক ব্যক্তিকে দিয়ে গোটাটা দেখান। সেই ব্যক্তি বলেন, ৪০-৫০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি খরচ হবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য। সুদীপবাবুর বক্তব্য, ‘সেই টাকা খরচ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পর্যটনমন্ত্রী, পুরমন্ত্রী, বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়েছি। কারণ, এই জায়গা তো সরকারের কাছ থেকেই ৯৯ বছরের লিজে নেওয়া।’ ৩ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী ও ১৬ জুলাই বাকি মন্ত্রীদের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ৮৩ বছর বয়সি সুদীপবাবুর কাছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে কোনো উত্তর আসেনি। সুদীপবাবু বলছিলেন, ‘ইতিমধ্যেই দমকল থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁরা বলছেন, আমরা কি আপনাকে কিছু বলেছি? আমি বললাম, আপনারাই বা কেন ফায়ার অডিট করেননি?’ এরই মধ্যে সুদীপবাবু মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছেন, এর নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামেও করা যেতে পারে।
৯৬টি দেশের প্রায় ১১০০ পুতুল রয়েছে এখানে। ৮০০-৯০০ ছাত্র আঁকা ও কবিতা শেখে। ৩৩ জন কর্মচারী আছেন। ক্লাস বন্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে কোর্স ফি ফেরত দেওয়াও শুরু হয়েছে। সুদীপবাবুর বাবা যুগল শ্রীমল ছিলেন এই মিউজিয়ামের মূল কারিগর। এখন আবার বিভিন্ন লোকজন ফোন করে এটি কিনে নিতে চাইছেন। সুদীপবাবু বলছেন, ‘এই জায়গা তো সরকারের। আমি তাঁদের বলেছি। এখন আমার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। দেখা যাক, কী হয়!’