নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আমার ছবি তুলবে না। ক্যামেরা ভেঙে দেব। বুঝবে জ্বালা! প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বারেবারে এহেন হুমকি দিচ্ছিল নিউটাউনের ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত সৌমিত্র রায়। আমৃত্য কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক অপরাধীর এই হুমকি শুনে হতবাক সাধারণ মানুষ। অনুশোচনা নয়, তার একাধিক ‘মস্তানি’র কীর্তি নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। নিয়ে পুলিস মহলেও সৌমিত্রের কীর্তি নিয়ে চলছে চর্চা।
বুধবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা বাজে। বারাসত আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যান থেকে হাতে শিকল বেঁধে নামানো হল সৌমিত্রকে। গাড়ি থেকে নামার পরে ক্রমাগত এক হাত আর পা ছুড়ছিল সে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত আদালতের লকআপে। সেখানে ৫০ মিনিট থাকার পর আনা হয় পকসো আদালতে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে লাগাতার হুমকি দিতে থাকে সৌমিত্র। এখানে শেষ নয়। চিৎকার করে বলতে থাকে, ক্যামেরা ভেঙে দেব। ছবি তুলবে না। আমি কিন্তু শেষ দেখে ছাড়ব। বুধবার সকালে এই কথা শুনে অবাক হয়েছে এলাকার মানুষ। কে এই সৌমিত্র? ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ নিউটাউন থানা এলাকায় একটি নারকীয় ঘটনা ঘটে। এক কিশোরীকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নাম করে টোটোতে চাপিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সে। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। মামলার মূল অভিযুক্ত টোটো চালক সৌমিত্র রায়। আদালতে আসার পথে এদিন প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য আসামীদের সঙ্গে সে টানা দুর্ব্যবহার করে বলে সূত্রের খবর। এমনকী জোর করে প্রিজন ভ্যান থেকে বেরিয়ে চলে যাওয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। ভেতরে তার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে পড়েন অন্যান্যরা। বিশ্বস্ত ওই সূত্রের খবর, প্রিজন ভ্যানে মস্তানি করেছে সৌমিত্র। তবে, সাজা ঘোষণার পর জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় হতাশ দেখাচ্ছিল তাকে।