Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোনও প্রশ্ন নেই, বিধানসভায় শুধু ‘হাঙ্গামা’, সাড়ে চার বছরে রেকর্ড বিরোধী দলনেতার

পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় ইতিহাসে সত্যিই বেনজির। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। অথচ গত সাড়ে চার বছরে কোনও অধিবেশনে একটিও প্রশ্ন করেননি তিনি!

কোনও প্রশ্ন নেই, বিধানসভায় শুধু ‘হাঙ্গামা’, সাড়ে চার বছরে রেকর্ড বিরোধী দলনেতার
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় ইতিহাসে সত্যিই বেনজির। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। অথচ গত সাড়ে চার বছরে কোনও অধিবেশনে একটিও প্রশ্ন করেননি তিনি! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, শাসকদল কিংবা সরকারি পরিষেবা নিয়েও কোনও প্রশ্ন বিধানসভার দরবারে তাঁর ঝুলি থেকে বেরয়নি। তাহলে কী করেছেন তিনি? তৃণমূলের এক মন্ত্রীর ভাষায়, ‘হাঙ্গামা’। এটাই তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভায় তাঁর অবদান? মনগড়া গল্প নয়, খোদ বিধানসভার সরকারি নথিতেই এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে, জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণতন্ত্রের পীঠস্থানে যাবেন বিরোধী প্রতিনিধিরাও। সেখানে দাঁড়িয়েই সরকার পক্ষকে প্রশ্নবাণে লাগাতার আক্রমণ করবেন। এই চেনা ছবি ২০২১ সাল থেকে কার্যত অমিল। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বঙ্গ বিজেপি বিধায়কদের একাংশের বক্তব্য। তাঁরা বলছেন, বিরোধী দলনেতা নিজেই কোনওদিন প্রশ্ন করেননি। তাই আমরা অনেকেই তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠদের দাবি, উনি সত্যিই কোনওদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেননি, অর্থাৎ নিজে প্রশ্ন করেননি। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক, মুলতুবি প্রস্তাব এবং উল্লেখ পর্বে তিনি সক্রিয় ছিলেন। 

Advertisement

২০২১ সালের ভোট পরবর্তী পর্বে বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ছিল ৭৭। গত কয়েক বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫’তে। দিল্লির দরবারেও বঙ্গ বিজেপির বিধায়কদের উপর বিরোধী দলনেতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। তার উপর এই নয়া রেকর্ড। তাঁর এই ভূমিকায় হতাশ রাজ্যের প্রাক্তন দুই বিরোধী দলনেতাও। সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত দুভার্গ্যজনক। আমরা সব সময়ই বলে আসছি, তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়া রয়েছে। যিনি নিজে একাধিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, তিনি বিধানসভায় শাসককে অপ্রীতিকর প্রশ্ন কখনওই করবেন না। পাছে নিজে অস্বস্তিতে পড়েন!’ অন্যদিকে, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান গোটা বিষয়ে বিরক্ত। রাজ্যের এই প্রাক্তন বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নিয়ে কম কথা বলাই শ্রেয়।’ বিরোধী দলনেতার এহেন ভূমিকায় সরব রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর অভিযোগ, ‘শুভেন্দুবাবু বিধানসভার ভিতরে সস্তার রাজনীতি আর হাঙ্গামায় বিশ্বাসী। সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা বিরোধী দলনেতার মূল ভূমিকা। কিন্তু উনি স্রেফ কুৎসা ও নিম্ন রুচির ব্যক্তিগত আক্রমণ করেই প্রচারে থাকতে বেশি আগ্রহী।’ তাঁর দাবি, ‘রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় কোনও প্রশ্ন না করে প্রায় পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলেন! এমন ঘটনা মনে পড়ছে না।’
যদিও বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ বিষয়ে ভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর কথায়, ‘২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে আক্ষরিক অর্থে প্রার্থী একজনই ছিলেন। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতার কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে বিধানসভার ভিতরে বিরোধী দলনেতা প্রাপ্য সম্মান পাননি। তাঁকে পাঁচবার সাসপেন্ড হতে হয়েছে। সাড়ে চার বছরে আইনসভার সার্বিক চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনা সামনে আসছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ