Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিকেল সাড়ে তিনটের আগে প্রাইমারি ছুটি নয়, শিক্ষকরা থাকবেন ৪টে পর্যন্ত: ডিআই

বিকেল সাড়ে তিনটের আগে প্রাইমারি ছুটি নয়, শিক্ষকরা থাকবেন ৪টে পর্যন্ত: ডিআই
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ২৩:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিকেল সাড়ে তিনটের আগে ডে প্রাইমারি স্কুল ছুটি নয়। শিক্ষকরা স্কুলে থাকবেন বিকেল চারটে পর্যন্ত। ‘বর্তমান’-এর খবরের জেরে কড়া নির্দেশ জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়ের। যদি কোনও ডে প্রাইমারি স্কুল বিকেল সাড়ে তিনটের আগে ছুটি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান সহ অন্য শিক্ষকদেরও শোকজ করা হবে বলে মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের অফিসে এদিন সার্কেল ইনস্পেক্টরদের নিয়ে বৈঠক করেন ডিআই। সেখানে এসআই’দের স্কুলগুলিতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিআই। সারপ্রাইজ ভিজিট বাড়াতে বলা হয়েছে।

Advertisement

জলপাইগুড়ি শহর ও শহরতলির বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে বলে অভিযোগ। মিড ডে মিল খাইয়েই ওইসব স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমন ছবি সামনে এসেছে। এনিয়ে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারই জেরে এদিন ডিআই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সময়ের আগে কোনও প্রাইমারি স্কুল ছুটি দেওয়া যাবে না। যদি কোনও স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় যে, মিড ডে মিল খাইয়ে ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত সোমবার জলপাইগুড়ি শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দনগর আর আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর দু’টোর সময় গিয়ে দেখা যায়, গোটা স্কুল ফাঁকা। একজন পড়ুয়াও নেই। প্রধান শিক্ষক উৎপলকুমার রায় জানান, মিড ডে মিল খাওয়া হয়ে গেলেই অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে যান। কিন্তু ছুটি না হতেই কেন পড়ুয়াদের স্কুল থেকে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়, তা নিয়ে ওই শিক্ষক সাফাই দেন, বাবা-মায়েরা যদি তাঁদের বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে চলে যান, সেক্ষেত্রে তাঁর কী করার আছে? এই মন্তব্য মোটেই ভালোভাবে নেননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্তারা। এদিন ডিআই বলেন, আমরা খোঁজ পেয়েছি, কিছু স্কুলে মিড ডে মিল খাওয়ার পরই পড়ুয়ারা বাড়ি চলে যাচ্ছে। এমনটা কিছুতেই হতে পারে না। যদি কোনও অভিভাবক ছুটির আগে তাঁদের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে ওই অভিভাবককে বোঝাতে হবে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক দায় স্কুলের শিক্ষকদেরই। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চলে যান বলে দুপুর দু’টোর সময় ডে প্রাইমারি স্কুল ফাঁকা হয়ে যাবে, এমনটা কখনওই হতে পারে না। জেলার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকদের শোকজ করা হবে। 
তিনি বলেন, যে সমস্ত প্রাইমারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে, সেখানে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছাত্রছাত্রী জোগাড় করতে বলা হয়েছে শিক্ষকদের। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ