Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আসানসোলে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে বিধায়কদের কড়া বার্তা

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর নির্দেশ মতোই আসানসোল সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি গঠিত হল।

দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আসানসোলে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে বিধায়কদের কড়া বার্তা
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর নির্দেশ মতোই আসানসোল সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি গঠিত হল। কোর কমিটিতে জেলার সাতজন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, জেলা সাধারণ সম্পাদক সহ বিজেপির জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব। ১৫জনের এই কোর কমিটি এবার জেলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল সার্কিট হাউসে প্রথমবার এই কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ছিল খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও। 

Advertisement

দলীয় সূত্রে খবর, প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বিধায়করা ইচ্ছে করলেই নিজের মতো যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কোর কমিটিই জেলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় রাজ্য বিজেপির যুগ্ম সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধন্দকে। সূত্রের খবর, প্রথম বৈঠকেই সতীশ ধান্দের তিরস্কারের মুখে পড়েন সদ্য নির্বাচিত এক বিধায়ক। বৈঠক শুরুর সময় সন্ধ্যা ৭টা ছিল। এই বিধায়ক ৮টার পর এসে বৈঠকে যোগদান করেন। তখনই তাঁকে দলের শৃঙ্খলার পাঠ পড়িয়ে দেন সতীশ ধন্দ। তবে, সরকারি সার্কিট হাউসে রাজনৈতিক বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস। যদিও এতে কোনো ভুল দেখছেন না বিজেপি নেতারা। বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কমিটি জেলার রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণ করবে। বিজেপির ক্ষেত্রে দলই সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে বড়, সেই বার্তাও বৈঠকে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনা প্রসঙ্গে দেবতনুবাবু বলেন, সরকার আমাদের, এতে অন্যায়ের কিছু নেই। তৃণমূল এতদিন ধরে অপকর্ম করেছে, ওরা এখন চুপ থাকুক।
এই কোর কমিটিতে কারা থাকছেন, তা নিয়েও বিজেপির অন্দরে প্রবল আগ্রহ ছিল। প্রথম বৈঠক থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ১৫জনের কোর কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, বিধায়ক অজয় পোদ্দার, বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি, বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পার্থ ঘোষ, বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক অরিজিৎ রায়। দেবতনু ভট্টাচার্যের পাশাপাশি রয়েছেন জেলার চার সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা, কাকলি ঘোষ, কেশব পোদ্দার। এছাড়াও এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন, পবন সিং, সভাপতি সিং, বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় ও তাপস রায়। উপস্থিত ছিলেন জেলা ইনচার্জ বিবেক রাঙ্গা। সার্কিট হাউসে দু’ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। নবনির্বাচিত বিধায়ক ও মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে। উল্টোদিকে বিধায়করা জেলা বিজেপির শীর্ষ পদাধিকারীদের সংবর্ধনা দেন। বৈঠকের সুর বেঁধে দেন বিজেপির রাঢ়বঙ্গ জোনের বিশেষ ইনচার্জ তথা রাজ্য বিজেপির যুগ্ম কার্যকারি সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধান্দ। যিনি ৬ মাস সময় ধরে এই এলাকায় পড়ে থেকে নিজের হাতে সংগঠন সাজিয়েছেন। সার্কিট হাউসে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, সার্কিট হাউসে কোনো দলের সাংগঠনিক বৈঠক সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। 
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল আর বিজেপি একই বৃন্তের দুই ফুল। এতদিন তৃণমূল যা করেছে এখন বিজেপিও তাই করছে। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলী সদস্য প্রার্থী পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল সরকার দল আর সরকারকে গুলিয়ে ফেলে আগের সরকার নিজেদের পতন ঘটিয়েছে। বিজেপিও সেই পথে অগ্রসর হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ