Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেসের ভয় নেই! বিনা হেলমেটে দাপাদাপি ব্যাটারিচালিত স্কুটারের

বাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরলেই আইনি ব্যবস্থা। পড়তে হবে জরিমানার কোপে। রাজ্যের নতুন সরকার এসেই এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে

কেসের ভয় নেই! বিনা হেলমেটে দাপাদাপি ব্যাটারিচালিত স্কুটারের
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরলেই আইনি ব্যবস্থা। পড়তে হবে জরিমানার কোপে। রাজ্যের নতুন সরকার এসেই এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সেই মতো ব্যাপক ধরপাকড়ও চলছে কলকাতা সহ বিভিন্ন শহরে। এর মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকা ব্যাটারিচালিত বাইক বা স্কুটার নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বিড়ম্বনা বাড়ছে। কারণ, পেট্রলে চলা বাইক বা স্কুটারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। চালক হেলমেট না পরলে সেই নম্বরের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করে কড়া হাতে দৌরাত্ম্য দমন করছে পুলিশ। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে শহরে বিনা হেলেমেটে ছুটছে বহু দ্বিচক্র যান। তাদের ধরপাকড়ের উপায় নেই পুলিশের! হাত-পা বাঁধা। কারণ, সিংহভাগ ব্যাটারিচালিত স্কুটারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে না। তাই মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের আওতায় পড়ে না সেগুলি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের বাইক বা স্কুটারের চালকের জন্য ‘হেড গিয়ার’ বা হেলমেট বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সেরও প্রয়োজন নেই। বাস্তব চিত্র হল, ব্যাটারিচালিত এই স্কুটারগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫-৫০ কিমি পর্যন্ত গতি তুলতে সক্ষম, যা শহরের গড় গতিবেগের তুলনায় বেশি। ফলে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। 

Advertisement

শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল পৌনে ৪টে। ডি এল খান রোড ক্রসিং পার করে রেজিস্ট্রেশন নম্বরহীন দু’টি ব্যাটারিচালিত স্কুটার এ জে সি বোস ফ্লাইওভারে ওঠে। সওয়ারি সংখ্যা সাকুল্যে চার। ফাঁকা ফ্লাইওভারে রেষারেষিতে মেতে ওঠে দু’জন। কারও মাথায় হেলমেট নেই। কারণ, তারা ভালোভাবেই জানে, এই ধরনের স্কুটারে হেলমেট না পরলেও কোনো জরিমানা হবে না! তাই আইনের ফাঁক গলে ফ্লাইওভারের উপরেই চলল কেরামতি। কখনও গতির দাপট, কখনও আবার আঁকাবাঁকা রাইডিং। সব মিলিয়ে তটস্থ হয়ে পড়ে ফ্লাইওভারের উপরের অন্যান্য গাড়ি, বাইক। পার্ক সার্কাস ক্রসিংয়ে নেমে যায় ওই দু’টি স্কুটার। বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত স্কুটারের কেরামতি দেখা গিয়েছে শনিবার রাতেও। সোয়া ন’টা নাগাদ হসপিটাল রোডে বিনা হেলমেটে স্কুটারে গতির ঝড় তুলতে দেখা গিয়েছে এক তরুণীকে। তাঁর পিছনে সওয়ার ছিলেন আরেক তরুণী। 
পুলিশের বক্তব্য, ব্যাটারিচালিত অপেক্ষাকৃত কম হর্সপাওয়ারের স্কুটারগুলিতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে না। ফলে সেই গাড়ির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উপায় নেই। তাছাড়া, চালকদের লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় জরিমানার কোনো ভয়ও নেই। আইনের এই ফাঁককেই কাজে লাগাচ্ছেন অনেকে। বহু রাস্তায় সিগন্যালও মানছেন না তাঁরা। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশিকায় শহরের কোন কোন রাস্তায় সাইকেল চালানো যাবে, কোন রাস্তায় নিষেধ, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। সাইকেলের জন্য বৈধ নয়, এমন রাস্তায় সাইকেল ঢুকলেই জরিমানা করতে পারে পুলিশ। কিন্তু ব্যাটারিচালিত স্কুটারের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিয়মের ‘শিকল’ নেই। ফলে তারা নির্ভয়ে ‘বাঁধনছাড়া’ হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। অনেক বাইকচালকের প্রশ্ন, ‘আমাদের কেস হলে ওরা বাদ কেন? এক যাত্রায় কি পৃথক ফল হয়!’ 

সম্পর্কিত সংবাদ