


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: বহিরাগত প্রার্থী হলে জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ভোটের পরে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে পাওয়া যায় না সেই প্রার্থীকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাউকে প্রার্থী করার দাবি তুলে তারকেশ্বরে একজোট হয়েছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। সেই দাবি কথা ছবি দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন নেতারা।
২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন রামেন্দু সিংহ রায়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এগিয়ে থাকার সুযোগ নিয়ে একুশের ভোট পার করতে চেয়েছিল বিজেপি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় সাত হাজার ভোটে পরাজিত হন স্বপনবাবু। ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা পাশে পাননি প্রার্থীকে। তাছাড়া গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় সংগঠন আরও দুর্বল হয়েছে। কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও ভোটার সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। তারকেশ্বরের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া এক সাংবাদিক এবং অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ অফিসারের নাম আলোচনায় এসেছে বলে বিজেপির অন্দরে খবর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক কর্মী বলেন, যে পুলিশ অফিসার আমাদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাঁকেই যদি আমাদের নেতা হিসাবে মানতে হয়, তাহলে এই দল না করাই ভালো। অন্যদিকে, সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংবাদিক প্রসঙ্গে বিজেপি কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, দিনকয়েক বিজেপির গুনগান করলেই প্রার্থী হওয়া যায় না। শোনা যাচ্ছে, বাইরে থেকে কাউকে এনে প্রার্থী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্রোহ হতে পারে দলে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এলাকার কাউকে প্রার্থী করতে হবে। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একত্রিত হয়ে ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন। সেই ছবি পোস্ট করেছেন বিজেপির আরামবাগ জেলার সাংগঠনিক সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী। তাতেই স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে গণেশবাবু বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। গত বিধানসভা ভোটে তারকেশ্বরে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে প্রার্থী বহিরাগত হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি। তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকার কাউকে প্রার্থী করা না হলে সাধারণ মানুষের সমর্থন কতটা মিলবে, সে বিষয়ে সংশয় আছে। স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে সুর মিলিয়েছেন বিজেপির আরামবাগ জেলার নেতা জগন্নাথ দাসও। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রার্থী হলে জয় নিশ্চিত।