নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও গান্ধীজির হাতের লাঠিটি উধাও। কোথাও তাঁর চোখ থেকে চশমা হাপিস। কোথাও আবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আঙুল গিয়েছে ভেঙে। আর শহরের প্রায় সর্বত্র ধুলোয় ধূসরিত মনীষীদের মূর্তিগুলি, কিংবা পাখির বিষ্ঠায় নোংরা। মানুষের জ্ঞাতার্থে জন্ম-মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা হয়েছিল এককালে। তা বহু জায়গাতেই এখন নেই। কোথাও আবার এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য খোদাই করে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে। কলকাতায় মূর্তি স্থাপনের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। বর্তমানে ঐতিহ্য ঢাল করে মূর্তি বসানো কার্যত ফ্যাশন করে নিয়েছে অনেকে। গাছ কেটে, ফুটপাত দখল করে গজিয়ে উঠছে একের পর এক মূর্তি। কিন্তু সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক করে হয় না। মূর্তি স্থাপন করেই খালাস উদ্যোগীরা। এবার যত্রতত্র স্ট্যাচু স্থাপনে রাশ টানতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। তৈরি হতে চলেছে ‘স্ট্যাচু কমিটি’।
সোমবার পুরসভায় মেয়র পরিষদের বৈঠকে কমিটি তৈরিতে সিলমোহর পড়েছে। তাদের অনুমোদন পেলে তবেই বসানো যাবে স্ট্যাচু। এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও নিতে হবে স্থাপনকারী ব্যক্তি বা সংস্থাকে। এর জন্য পুর কর্তৃপক্ষের কাছে দস্তুরমতো মুচলেকা দিতে হবে তাঁদের। কমিটির চেয়ারম্যান হবেন উদ্যান বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। আরও আটজন থাকবেন সদস্য হিসেবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসচিব হচ্ছেন নোডাল অফিসার। মূর্তি স্থাপনের আবেদন সচিব সংশ্লিষ্ট বরো এবং পুরসভার সার্ভেয়ার বিভাগের কাছে পাঠাবেন। বরো এবং সার্ভেয়ার বিভাগ জায়গা পরিদর্শন করবে। কোথায় স্ট্যাচু বসানো হবে। কেন বসানো হচ্ছে। বসার পর ফুটপাতে হাঁটাচলার পর্যাপ্ত জায়গা থাকছে কি না। রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে কি না। ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখে পরিদর্শক দল স্ট্যাচু কমিটিকে তা রিপোর্ট করবে। তারপর বিবেচনা করে কমিটি রিপোর্ট অনুমোদন বা খারিজ করবে। অনুমোদিত আবেদন এরপর জমা পড়বে মেয়র পরিষদের কাছে. তারপর বৈঠক ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। অনুমোদন মিললে তবেই বসবে স্ট্যাচু। এক পুরকর্তা বলেন, স্ট্যাচু বসাতে কত টাকা ধার্য করা হবে তা নির্ধারণ করবে মেয়র পরিষদ। স্ট্যাচু বসানোর পর উদ্যোক্তাকে বছরভর সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। দিতে হবে মুচলেখা। তবে মিলবে অনুমোদন।
কাঁকুড়গাছিতে ফুটপাতের ধারে যে রথ স্থাপন হয়েছিল তার একাংশ ভেঙে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘড়ির মিনার বসানো হয়েছিল। সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ হয় না বলে অভিযোগ। কোথাও ঘড়ি চলে না, কোথাও আলো জ্বলে না। শহরবাসীর অভিযোগ, ভগ্নদশাপ্রাপ্ত মূর্তিগুলি দৃশ্যদূষণের কারণ। শহরের চেহারা সঙ্গে বেমানান। রক্ষণাবেক্ষণ প্রায় হয়ই না কাউন্সিলার বা পুরসভা, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও কেউই আর স্থাপনের পর দায়িত্ব নেয় না। পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, এই মানসিকতার বদল প্রয়োজন। তাই কমিটি গঠন।