নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চাষের জন্য আর মিলবে না ‘ফ্রি’ জল। কৃষকদের থেকে এবার চাষে ব্যবহৃত জলের উপরেও দাম নেবে বলে ঠিক করেছে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, আপাতত ২০টি রাজ্যে পাইলট প্রকল্প শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঠিক হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট লাইনের মাধ্যমে চাষের জমি জল যাবে। পরিমাণ মতোই জল দেওয়া হবে। জল নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। তবে সংবিধান মোতাবেক কৃষি যেহেতু রাজ্যের বিষয়, তাই এ ব্যাপারে রাজ্যগুলিকে প্রস্তাব পাঠিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। কৃষককে চাষের জন্য জল সরবরাহে কত টাকার বিল ধরানো হবে, তা ঠিক করবে রাজ্যই। কেন্দ্র স্রেফ এই প্রকল্পে সহযোগিতা করবে। তার জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা অনুমোদনও করেছে মোদি সরকার।
বৃহস্পতিবার মোদি সরকারের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সি আর পাতিল বলেন, শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে যে জল ব্যবহার হয়, সেখানে তাদের তা কিনতে হয়। ফ্রি মেলে না। একইভাবে চাষবাসের কাজেও জলের অপচয় কমানোর লক্ষ্যেই দাম চাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, চাষবাসের কাজে দেশের ৮৩ শতাংশ জল ব্যবহার হয়। কিন্তু তার অধিকাংশ অপচয় হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঠিক করেছেন, এবার কৃষকদের জল দেওয়া হবে, গুনমানসম্পন্ন জলই মিলবে। তবে অপচয় করা যাবে না। এখন দেখা যাক, রাজ্যগুলি কী বলে। কোনও রাজ্য যদি কৃষকের থেকে জলের দাম নিতে না চায়, সেটা রাজ্যের ব্যাপার। তবে আমরা চাই, দাম নেওয়া হোক।
অন্যদিকে, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানকে সিন্ধু নদের জল দেওয়া আটকানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরছে না কেন্দ্র। উল্টে, পাকিস্তানে সিন্ধুর জল চলে যাওয়া আটকাতে ভারত নানা প্রকল্প নিচ্ছে। টুলবুল প্রকল্পের জন্য এনএইচপিসি ডিটেইলস প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। তিন বছর সময় লাগবে। এছাড়া কিষাণগঙ্গা প্রকল্পের কাজও চলছে। চারটে আরও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সিন্ধু ইস্যুতে আমি কিছু বলতে পারব না। ওটা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। আর অমিত শাহ অনেক বড় নেতা। তিনি যখন সম্প্রতি বলেছেন যে, জল দেওয়া হবে না। তো দেওয়া হবে না। পাকিস্তান আমাদের কাছে জল চেয়ে চিঠি পাঠালেও কোনও কাজ হবে না। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা বিলওয়াল ভুট্টো সিন্ধুর জল না পেলে রঙ্গগঙ্গা বইবে বলে যতই হুমকি দিন, হমলোগ ডরতে নেহি হ্যায়। জানিয়ে দেন সি আর পাতিল।
প্রসঙ্গক্রমে তিস্তা জলচুক্তির কথাও ওঠে। তিস্তার জল বাংলাদেশকে কোনওভাবেই বেশি দেওয়া হবে না বলে বরাবর রাজ্যের স্বার্থে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, তিস্তা ইস্যুতে নতুন কোনও খবর নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে কবে বৈঠক হবে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। ওরা মিটিং বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই তিস্তা ইস্যুতে এখন কোনও আলোচনা হবে না।