নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নজর এড়াতে অনেক দুরন্ত ছাত্রছাত্রী শেষ বেঞ্চে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। মূলত শিশু পড়ুয়াদের মধ্যে এই ঝোঁক বেশি। এবার এই প্রবণতা আটকাতে ব্যাক বেঞ্চ ব্যবস্থা তুলে দিল একটি স্কুল। দেগঙ্গার শ্বেতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হল ‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার’ মডেল। ২০২৪ সালে একটি মালয়ালম সিনেমা এসেছিল। সেটি শিশু চলচ্চিত্র। সে সিনেমা দেখেই অনুপ্রাণিত হয় শ্বেতপুর বিদ্যালয়। তারপর এ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে মডেল ক্লাসও চালু করে দেয়।
দেগঙ্গার সোহাই-শ্বেতপুর পঞ্চায়েতের শ্বেতপুর গ্রামে রয়েছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, ১৯৪১ সালে। গ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী চালু করেছিলেন স্কুলটি। বর্তমানে পড়ুয়া সংখ্যা প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০০। শিক্ষক-শিক্ষিকা ১০। সব স্কুলের ক্লাস রুমেই থাকে ব্যাক টু ব্যাক বেঞ্চ। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে চেয়ার টেবিল পেতে বসেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। সামনের বেঞ্চে বসার জন্য পড়ুয়াদের একাংশের আগ্রহ থাকে। এ নিয়ে সহপাঠীদের মধ্যে বিবাদও হয়। আবার উল্টো ছবিও দেখা যায়। গণিত বা ইংরেজি ক্লাসে পড়া হয়নি বলে একেবারে পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসে একশ্রেণির পড়ুয়া। শিক্ষকদের শ্যেন চক্ষু এড়াতে মাথা নিচু করে বসে থাকে। শিক্ষকরাও সেরকমভাবে তাদের নজর করে না।
শ্বেতপুরে শিক্ষক-পড়ুয়া এই দূরত্ব এড়াতেই উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ব্যাক বেঞ্চের আগল খুলে দিয়েছিল ২০২৪ সালে রিলিজ হওয়া মালয়ালম সিনেমাটি। ক্লাসের ব্যাক বেঞ্চে বসা বাচ্চাদের সঙ্গে আন্তরিক হতে না পারা শিক্ষকদের মানসিকতা বুঝতে সিনেমাটি প্রথম দেখেন স্কুলের এক শিক্ষক। তাঁর কাছে শুনে অনান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও দেখেন সিনেমাটি। এরপর প্রধানশিক্ষক দিলীপ পাল সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লাস রুমে ‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার’ মডেল করার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই বিশেষ ব্যবস্থায় ক্লাস। স্কুলে দেখা গিয়েছে, প্রতিটি ক্লাস রুমে শিক্ষকদের ডানদিকে পাতা হয়েছে বেঞ্চ। একইভাবে ব্ল্যাক বোর্ডের বাঁ দিকেও থাকছে। শিক্ষকের সামনে বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা। তারপর তাঁর টেবিলের মুখোমুখি একটি বেঞ্চ। ফলে ক্লাসে কোনও ব্যাক বেঞ্চ থাকছে না। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক দিলীপ পাল বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে সকলের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’ সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘মালয়ালম সিনেমাটি দেখেই আমাদের এই উদ্যোগ। পড়ুয়ারাও এই ব্যবস্থায় খুব খুশি।’